২৫ মিনিটের দৃশ্য, খরচ ৪০০ কোটি টাকার বেশি
ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রামিক নেওয়া পরিচালক এসএস রাজামৌলি। তার নির্মিত পরবর্তী সিনেমা ‘বারাণসী’। তেলেগু ভাষার এ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন—দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা মহেশ বাবু, পৃথ্বীরাজ সুকুমারান, বলিউড-হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
গত বছরের শেষের দিকে মুক্তি পায় ‘বারাণসী’ সিনেমার ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের টিজার। তারপর থেকে ভিজ্যুয়াল, সময়ের ব্যাপকতা ও আকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন গল্প বলার স্টাইলে বুঁদ হয়ে আছেন দর্শকরা। সিনেমাটির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নির্মাতারা। এরই মধ্যে জানা গেল, সিনেমাটির কয়েক মিনিটের দৃশ্যের জন্য ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার বেশি।
‘বারাণসী’ সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো—‘ত্রেতা যুগ’ পর্ব। এই অংশের দৈর্ঘ্য ২৫ মিনিট। এই ২৫ মিনিটের দৃশ্যধারণে ২৫০–৩০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩৬-৪০৪ কোটি টাকা) ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। ভগবান রামের যুগকে পুনর্নির্মাণ করার জন্য বিশাল সেট তৈরি করা হয়। তাছাড়া সূক্ষ্ম পোশাক নকশা, বিস্তৃত অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানের ভিএফএক্স।
চলচ্চিত্র নির্মাতারা বিশ্বমানের সিজিআই ব্যবহার করছেন, যাতে দৃশ্যগুলো কৃত্রিম না লাগে। একটি ভিএফএক্স শটের খরচ তার জটিলতার ওপর নির্ভর করে লাখ বা কোটি টাকাতেও পৌঁছাতে পারে। এই পর্বে এমন হাজার হাজার শট থাকবে। তাছাড়া অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে মোশন ক্যাপচার, ক্রাউড সিমুলেশন ও বিশেষ ইফেক্টের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাজেট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরাণভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বারাণসী’, ফলে গল্প বলার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গহনা, অস্ত্র, স্থাপত্য থেকে শুরু করে চরিত্রের দেহভঙ্গি পর্যন্ত, প্রতিটি বিষয়ে সূক্ষ্ম গবেষণা ও নকশা প্রয়োজন হয়েছে। কাজটি নিখুঁত করার প্রতিশ্রুতি নির্মাণব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ভারতীয় সিনেমায় নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৃশ্যগুলোর মধ্যে এটি একটি হয়ে উঠতে পারে!
‘বারাণসী’ সিনেমার বাজেট
টাইম-ট্রাভেল ঘরানার ‘বারাণসী’ সিনেমার বাজেট ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার বেশি); যা ইতিহাস তৈরি করেছে। এই অর্থের মধ্যে প্রিন্ট ও প্রচারের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক লোকেশনগুলোতে শুটিং থাকায় বাজেট আরো বাড়তে পারে। বাজেটের বড় অংশই তারকাদের পারিশ্রমিক, বিশ্বব্যাপী শুটিং, উন্নত ভিএফএক্স এবং শীর্ষ প্রযুক্তিবিদদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নির্মিত সর্বাধিক ব্যয়বহুল সিনেমাগুলোর অন্যতম হতে যাচ্ছে ‘বারাণসী’।
তবে এই বাজেটকে ‘কম’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রেড সংশ্লিষ্টরা। বলিউড হাঙ্গামাকে একটি সূত্র বলেন, “এসএস রাজামৌলির বিশাল দৃষ্টিভঙ্গিকে পর্দায় রূপ দিতে ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপি বাজেট তুলনামূলক কমই। যেখানে ‘এ৬’ এবং ‘রামায়ণ’ এর মতো চলচ্চিত্রগুলো ১৫০০-২০০০ কোটি রুপি বাজেটে তৈরি হচ্ছে, সেখানে এসএস রাজামৌলি আরো বড়সড় একটি সিনেমা বানাতে চলেছেন; যা অনেক কম বাজেটে।”
‘বারাণসী’ সিনেমার মুক্তির তারিখ
‘ট্রিপল আর’ সিনেমা বিশ্বব্যাপী সাফল্যের পর, রাজামৌলি সৃষ্টিশীল ও বাণিজ্যিক দিক থেকে ‘বারাণসী’ সিনেমাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। সম্প্রতি সংগীত পরিচালক এমএম কীরাবাণি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
*সিয়াসাত ডটকম, বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে
ঢাকা/শান্ত