ঢাকা     রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৯ ১৪৩২ || ৪ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাইজিংবিডিকে আনোয়ারুল ইসলাম

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির 

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির 

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম

মাত্রই শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি রাইজিংবিডি ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, দুই ঈদের ছুটি ও বর্ষাকালের বিষয় বিবেচনায় রেখে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। ইসি আনোয়ারুল ইসলামের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডি ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। 

আরো পড়ুন:

রাইজিংবিডি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করার পর আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কি চিঠি পেয়েছেন?

আনোয়ারুল ইসলাম: মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এরইমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমরা চিঠি পেয়েছি। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এরপর নির্ধারিত তারিখ ও সময় ঘোষণা করে আরো সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।

রাইজিংবিডি: কয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য চিঠি এসেছে?

আনোয়ারুল ইসলাম: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য চিঠি এসেছে। 

রাইজিংবিডি: এই তিন সিটিতে পোলিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগের মতোই রাখা হবে কি?

আনোয়ারুল ইসলাম: সিটি করপোরেশনের নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এখানে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি থাকে। তাই আমরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

রাইজিংবিডি: এখন ইসির সামনে আর কোন কোন নির্বাচন রয়েছে?

আনোয়ারুল ইসলাম: ব্যক্তিগতভাবে মনে করি—শেরপুরের নির্বাচন, বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

রাইজিংবিডি: এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে কত সময় লাগতে পারে?
আনোয়ারুল ইসলাম: এগুলোর জন্য খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।

রাইজিংবিডি: রমজানের মধ্যে শেরপুর, বগুড়া বা সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল দেওয়া হতে পারে কি?

আনোয়ারুল ইসলাম: নির্বাচন কমিশন বসে সার্বিক সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করবে। সামনে ঈদের ছুটি, কোরবানির ঈদ ও বর্ষাকাল সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাইজিংবিডি: বছরজুড়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইসির পরিকল্পনা কী?

আনোয়ারুল ইসলাম: সিটি করপোরেশন নির্বাচন, শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচন ছাড়াও যদি কোনো সংসদ সদস্য অন্য কোনো পদে যান এবং আসন শূন্য হয়, সেখানে উপনির্বাচন করতে হবে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন রয়েছে। জেলা পরিষদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও রয়েছে। আমরা ২০২৬ সালের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। তবে বর্ষাকাল অনেক সময় নির্বাচনের জন্য অনুকূল হয় না—পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাইজিংবিডি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হয়েছিল। এখন দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব?

আনোয়ারুল ইসলাম: আস্থার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিনও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্বাচন হবে কি না। বিভিন্ন আন্দোলন-সংকট ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে এবং নির্বাচন হয়েছে। অনেক দেশ বলছে, বাংলাদেশে গিয়ে শিখে আসো কীভাবে নির্বাচন করতে হয়। এটি জাতির জন্য বড় অর্জন। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় ভালো নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

রাইজিংবিডি: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি কি বড় চ্যালেঞ্জ হবে?

আনোয়ারুল ইসলাম: এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। তবে আমরা আশাবাদী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন প্রভাবমুক্তভাবে নির্বাচন করতে পেরেছি, ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

রাইজিংবিডি: নির্বাচনে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো কি বিবেচনায় নেবেন?

আনোয়ারুল ইসলাম: এরইমধ্যে যে অধ্যাদেশগুলো জারি হয়েছে, সেগুলো আমাদের অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যদি মনে করি কোনো বিষয়ে সংশোধন বা সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন, তা বিবেচনা করা হবে। এখন যেহেতু নিয়মিত সংসদ রয়েছে, অধ্যাদেশগুলো আইন আকারে রূপ নেবে কি না—তা সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আনোয়ারুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা/এমএসবি/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়