ইউরোপ যাওয়ার পথে প্রাণ গেল আরো ৮ জনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন আবারো রূপ নিয়েছে ভয়াবহ ট্র্যাজেটিতে। লিবিয়ার পুলিশ রাজধানী ত্রিপোলির কাছে উপকূলে ভেসে আসা পাঁচজন আশ্রয়প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে গ্রিস সরকারের তথ্যানুসারে, ক্রিট দ্বীপের উপকূলে পৃথক এক ঘটনায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
লিবিয়ার একজন পুলিশ কর্মকর্তার তথ্যমতে, শনিবার দেশটির উপকূলীয় শহর কসর আল-আখইয়ারের বাসিন্দারা মরদেহগুলো দেখতে পান। কসর আল-আখইয়ার পুলিশ স্টেশনের তদন্ত প্রধান হাসান আল-ঘাভিল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহতদের সবাই কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন।
তিনি আরো জানান, স্থানীয়রা সাগরের তীরে একটি শিশুর মরদেহ ভেসে আসতে দেখেছিল, তবে ঢেউয়ের তোড়ে সেটি আবার সমুদ্রে তলিয়ে যায়। ঘাভিল বলেন, “আমরা মরদেহগুলো উদ্ধারের জন্য রেড ক্রিসেন্টকে খবর দিয়েছি। উদ্ধারকৃত দেহগুলো এখনো অক্ষত আছে এবং আমাদের ধারণা আরো মরদেহ উপকূলে ভেসে আসতে পারে।”
কয়েক সপ্তাহ আগেই আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছিল, ত্রিপোলির পশ্চিমে জুওয়ারা শহরের উপকূলে ৫৫ জন আরোহী নিয়ে একটি রাবার বোট ডুবে যাওয়ার পর দুই শিশুসহ অন্তত ৫৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, শনিবার গ্রিস সরকার পূর্ব ভূমধ্যসাগরে আরেকটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। অ্যাথেন্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপের উপকূলে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে অধিকাংশই মিশরীয় ও সুদানি নাগরিক এবং তাদের মধ্যে চারজন নাবালক রয়েছে। গ্রিসের রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি ইআরটি’র তথ্যমতে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের উদ্ধার তৎপরতার সময় যাত্রীরা মই দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে কাঠের নৌকাটি উল্টে যায়।
গ্রিস কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র এএফপি-কে জানান, চারটি টহল বোট, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের দুটি জাহাজের সাহায্যে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালায়। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ বা দাসত্বের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের নৌকা লিবিয়ায় ফেরত পাঠানোর ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৭০ জনেরও বেশি মানুষ ক্রিট দ্বীপ হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছে।
২০২৫ সালে গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। অভিবাসীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গ্রিস সরকার গত গ্রীষ্মে তিন মাসের জন্য আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল।
ঢাকা/ফিরোজ