ঢাকা     শুক্রবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ফ্রাঙ্কা: ইতালির নির্মম আইন যাকে হারাতে পারেনি

সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০২, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪১, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফ্রাঙ্কা: ইতালির নির্মম আইন যাকে হারাতে পারেনি

ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা

১৯৬৫ সালের ইতালির সিসিলিতে মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরী অজান্তেই হয়ে উঠেছিল ইতিহাস বদলে দেওয়ার এক সাহসী প্রতীক। তার নাম ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা। আট দিন আট রাত ধরে তাকে নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতনকারীর একটাই দাবি—“আমাকে বিয়ে করো।”

সেই সময় ইতালির প্রচলিত আইন ছিল আরও নির্মম। ধর্ষক যদি ভুক্তভোগীকে বিয়ে করত, তাহলে তার শাস্তি মওকুফ হয়ে যেত। এই প্রথাকে বলা হতো “সম্মান পুনরুদ্ধার”। দেশটির দণ্ডবিধির ৫৪৪ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণকে তখন ‘‘ব্যক্তির প্রতি অপরাধ’’ হিসেবে না দেখে কেবল ‘‘নৈতিকতা বহির্ভূত কাজ’’ হিসেবেই দেখা হত। 

আরো পড়ুন:

পরিবার, সমাজ—সবাই ফ্রাঙ্কাকে বোঝাতে শুরু করল, “বিয়ে করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, সম্মান ফিরে আসবে।” কিন্তু ফ্রাঙ্কা অন্যরকম ছিলেন। তিনি বলেছিলেন একটিমাত্র শব্দ— ‘না।’ উদ্ধারের পরও চাপ কমেনি। চারদিক থেকে বলা হচ্ছিল— “বিয়ে করো, নইলে জীবন শেষ হয়ে যাবে।”

তবু ফ্রাঙ্কা নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি। ১৯৬৬ সালে আদালতে দাঁড়িয়ে সে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন— “আমি ভিকটিম নই। আমি অপরাধীর স্ত্রী হব না।”

মেলোদিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা নির্লজ্জভাবে দাবি করে বসে, ফ্রাঙ্কা আসলে অপহৃতই হয়নি, বরং সে আর মেলোদিয়া মিলে পরিকল্পনা করেই পালিয়েছিল।  ভাগ্য ভাল ছিল ফ্রাঙ্কার সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইবাছাই শেষে আদালতের রায় যায় ফ্রাঙ্কার পক্ষেই। রায়ে মেলোদিয়াকে ১১ বছর আর তার সাত সহযোগীর প্রত্যেককে ৪ বছর করে সাজা দেয়া হয়। মেলোদিয়ার এই সাজা পরে অবশ্য ১ বছর কমিয়ে আনা হয়।

পরবর্তীতে ফ্রাঙ্কা বিয়ে করেন তার শৈশবের বন্ধু জিউসেপ্পেকে—যে কখনো তাকে ‘ধর্ষিতা’ বলে দেখেনি। বরং সবসময় বলেছে, “তুমি একজন যোদ্ধা।” 

এদিকে পুরো সাজা খেটে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পায় মেলোদিয়া। এরপর অবশ্য আর বেশিদিন বাঁচতে পারেনি সে।  মুক্তি পাওয়ার মাত্র দুইবছরের মাথায় গুলি খেয়ে মডেনার রাস্তায় কুকুরের মতো পড়ে থাকে সে।

আজও পৃথিবীর বহু জায়গায় মেয়েদের বলা হয়—‘মেনে নাও।’ অথচ ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, আত্মসম্মান কখনো মেনে নেওয়ায় ফিরে আসে না; ফিরে আসে প্রতিবাদে, সাহসে, এবং দৃঢ় ‘না’-এর শক্তিতে।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়