রোজার আগেই বেড়েছে মাছ-মুরগি-লেবুর দাম
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
সবজি, মাছ ও চিনি
রমজান মাস আসার আগেই বেড়েছে মাছ-মুরগি ও লেবুর দাম। বিক্রেতারা বলছেন, মাছ ও মুরগির উৎপাদন এবং সরবরাহ চাহিদা তুলনায় কম থাকায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে রমজানের ইফতার সামগ্রীর অন্যতম পণ্য ছোলা, মসুর, ও অ্যাংকর ডালসহ সব ধরনের ডালের দাম পাইকারি বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানির ফলে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার, নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সপ্তাহে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, দেশি শশা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, টমেটো ৫০টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে মাছ-মুরগির ও লেবুর দাম
মাছের উৎপাদন কম ও পরিবহন সমস্যার জন্য গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২৫০ থেকে ২৭০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বেড়েছে মুরগির দাম। এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে লেবুর দাম। এ সপ্তাহে বাজারে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। এখন বাজারে ছোট আকারের লেবুর হালি বিক্রি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা।
কমেছে ছোলার-ডাল ও চিনির দাম
পাইকারি বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানির কারণে কমেছে ছোলা, মসুর, ও অ্যাংকর ডালসহ সব ধরনের ডালের দাম। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। যা গত মাসে ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা এবং গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা।
প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়। মসুর ডাল (বড় দানার) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।
গত বছরের রমজানে তুলনায় এ বছর কমেছে চিনির দাম। এখন বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
বাজারে এখন বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার খোলা পামওয়েল তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকায়।
এছাড়া মুদি বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্রেতা বিক্রেতারা
রাজধানীর রায়েরবাজারে কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী রিয়াদ সিকদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “বাজারে মাছ মাংসসহ সবকিছুর দাম বাড়তি দেখছি। আমরা যারা ঢাকায় ব্যাচেলর থাকি, তাদের অনেক হিসেবে করে চলতে হয়। চাইলেই পছন্দের মাছ-মাংস খেতে পারি না। সামনে রমজান মাস আসছে, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এই মাসকে অতি মুনাফা উপার্জনের মাস মনে করেন। যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে পণ্যের মূল্য ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতা করে।”
রাজধানীর নিউমার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী সুমন মোল্লা বলেন, “এবারের রমজান মাসে ইফতার সামগ্রীর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে আশা করছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতার সামগ্রীর দাম কিছুটা কম। তবে সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য মুদি পণ্যের দাম আগের মতই আছে।”
ঢাকা/এস