ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২ || ২২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিরাজগঞ্জে ইন্টারচেঞ্জসহ ১১ উড়াল সেতু চালু, ঈদযাত্রায় স্বস্তির আশা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৫, ১২ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১০:০৯, ১২ মার্চ ২০২৬
সিরাজগঞ্জে ইন্টারচেঞ্জসহ ১১ উড়াল সেতু চালু, ঈদযাত্রায় স্বস্তির আশা

পাল্টে গেছে যমুনা সেতুর পশ্চিম সড়ক।

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল যমুনা সেতু পশ্চিম সড়কপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বজায় থাকে। যানবাহনের যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করতে সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুলে ইন্টারচেঞ্জ সার্ভিস সড়কসহ ১১টি উড়াল সেতু চালু করা হয়েছে। ফলে এবারের ঈদযাত্রা ভোগান্তিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে এমনটি আশা করছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এই মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার সংযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের আগে ও পরে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় এই মহাসড়কই মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। 

আরো পড়ুন:

ঈদকে কেন্দ্র করে এই মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিত। বিশেষ করে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন ঘরমুখো মানুষ ও পরিবহন চালকরা। নতুন ইন্টারচেঞ্জ ও উড়ালসেতু চালু হওয়ায় যানবাহন চলাচল এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক হবে। 

তবে, যমুনা সেতুতে একদিকে ছয় লেন এবং অন্যদিকে চার লেনের গাড়ি টোল প্লাজা অতিক্রম করে সেতুতে প্রবেশ করলেও পাশাপাশি দুইটি যানবাহন একসাথে যেতে না পারায় যানবাহনের চাপ সামলানো সম্ভব হয় না। এতেও সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন এবং লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি নষ্ট হয়ে  যানজট আরো বৃদ্ধি পায়। ঈদে সেতুর দুই পাড়ে দীর্ঘ যানজটের এটি অন্যতম কারণ।

বাস ও ট্রাক চালকেরা জানান, উত্তবঙ্গের মহাসড়কে এবার যানজটের আশংকা নেই। তবে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির আশংকা করা হচ্ছে। গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার ঘটনা এর আগে ঘটেছে। সেজন্য তাদের কিছুটা অতংকের মধ্যে গাড়ি চলাতে হয়। মহাসড়ক জুড়ে পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার অব্যাহত থাকলে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে আগে দুটি রেসকিউ গাড়ি রাখা হয়েছিল। এবার এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে আরেকটি রেসকিউ গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। আমরা যতটা পারি, যমুনা সেতুতে সুন্দরভাবে যানবাহন পারাপারের বিষয়টি নিশ্চিত করব।”

এদিকে, হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জ ও উড়াল সেতু বিভিন্ন জেলায় ঢোকার পথকে ভাগ করবে। চলতি বছরে ইন্টারচেঞ্জের সব লেনেই কাজ চলমান থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের চার লেনের ১৩টি আন্ডারপাস খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আগে কাজ আরো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

সাসেক-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, “১১টি উড়ার সেতু চালু আছে। ঢাকা টু বগুড়া যে লেনটা রয়েছে, এটাকে আমরা বলছি রেম্বিং। এটার আমরা অর্ধেক লেন চালু করে দেব। আশা করা যায়, এখানে ঈদে কোনো যানজট হবে না। আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার। এই যানটির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে ঈদযাত্রায় নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করা এসব ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।” 

তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ শহর থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো দিক দিয়েও মহাসড়কে ওঠে। সব দপ্তর একসঙ্গে কাজ করে যদি সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে পারে, তাহলে ঈদযাত্রায় কোনো যানজট হবে না।”

সার্বিক বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কে কোনো থ্রি-হুইলার চলবে না। ঈদের সময়ে তো প্রশ্নই আসে না। কয়েকটি চলাচল করে। মহাসড়ক বলতে গোলচত্বর এলাকায় সার্ভিস লেন নেই, ওইগুলোতে চলে। মহাসড়কে যেখানে সার্ভিস লেন আছে, সেখান দিয়ে চলে না। এবার লম্বা সময় ধরে ছুটি হওয়ায় যানজট হবে না বলেই আশা রাখছি। ইতোমধ্যে মহাসড়কের নিরাপত্তায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছে।”

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা এই সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম, মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে, যেন যানজট দূর করা যায়। আমাদের সড়ক শৃঙ্খলার সঙ্গে এই বিষয়গুলো জড়িত।”

তিনি বলেন, “কোনো যানবাহন মহাসড়কে বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে মহাসড়ক সচল করা হবে। এজন্য উদ্ধারকারী রেকার ও চেইন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে থাকবে। প্রস্তুত থাকবে উদ্ধারকারী টিমও। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই যেন না হয় সেজন্যও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের ফোর্স কাজ শুরু করেছে। সব মিলে এ বছর উত্তরের ঈদযাত্রা হবে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক।”

ঢাকা/অদিত্য/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়