ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৭ ১৪৩২ || ৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১১, ২০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৫:১৪, ২০ মার্চ ২০২৬
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্নস্থানে মুসল্লিরা ঈদ উদযাপন করেন।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। সেখানকার মুসল্লিরা সকালে ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন। এরপর মিষ্টি মুখ করে পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

আজ শুক্রবার সৌদি আবরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা সৌদি আবরসহ পৃথিবীর যেখানে চাঁদ দেখা যায়, সেই অনুসারে রোজা পালন এবং ঈদ উদযাপন করে থাকে।

আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশসহ আশপাশের সব দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। 

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারী জেলার ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার মুসল্লি পরিবার নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। তাদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর দরবার শরিফ মাঠে। 

সুরেশ্বর দরবার শরিফ সূত্রে জানা যায়, জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরী নামে এক সুফি সাধকের প্রতিষ্ঠিত সুরেশ্বর পাক দরবার শরিফের সারা দেশে কয়েক লাখ ভক্ত ও অনুরাগী রয়েছে। এসব ভক্ত ও অনুরাগীরা ১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে একই দিন রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে আসছে।  

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধ, চণ্ডীপুরসহ ৩০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার ভক্ত ঈদ উদযাপন করছেন।

নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামের কাদেরিয়া তারিকার অনুসারী দুই শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। প্রায় শত বছর ধরে তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন। এ সব গ্রামের মানুষ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। 

জেলার তিন উপজেলার ১০টি মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন।

নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর গ্রামে সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে  বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামেও ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়।

তাদের দাবি, বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (রহ) এর মতাদর্শে তৈরি হয় কাদেরিয়া তরিকা। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছর রোজা রাখেন। একইভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।

বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী সিরাজ মিয়া জানান, পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ অনুযায়ী তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজে আল্লাহর কাছে একে অপরের জন্য দোয়া করেন।

সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর গ্রামের আলাউদ্দিন বলেন, সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। নামাজের পরে সবাই মিলে সেমাই খেয়েছেন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন জানান, নোয়াখালীর তিন উপজেলার পাঁচটি গ্রামে দুই শতাধিক মুসল্লি ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। তাদের ঈদ উদযাপন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সকালে বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। 

উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের বর্তমান গদীনশীন পীর ইমামুল আরেফিন ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের অনুসারীরা এ ঈদ উদযাপনে অংশ নেয়।

সকাল ১০টার দিকে পাঁচআনী দরগা মসজিদ ঈদগাঁ মাঠ, মধ্য পাঁচআনী গাইবি জামে মসজিদ (পাঁচআনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) প্রাঙ্গণ এবং দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত হয়।

সাড়ে পাঁচআনী কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ ময়দানে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা খলিলুর রহমান। জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

১৯২৮ সাল থেকে এসব এলাকার মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করে আসছেন।

ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব উত্তর থানা পুলিশ প্রতিটি ঈদগাহে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় ১০টি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হয়েছে। সবগুলো জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছাও জানান।

ঝালকাঠি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর এলাকার দারুস-সুন্নাহ ঈদগাহ মাঠে সকাল সোয়া ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

জামাতে দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা আলাদা তাবুর ভেতর থেকে একই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

২০২০ সাল থেকে ডহরশংকর গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

ঈদগাহ মাঠের ইমাম ও খতিব মাওলানা আমিনুর ইসলাম বলেন, “তারিকা বলতে আমরা নবী করিম (সা.)-এর তরিকাকেই বুঝি। কোরআন ও সহিহ হাদিস অনুযায়ী যে আমল পাওয়া যায়, আমরা তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি। সহিহ হাদিস অনুযায়ী সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে প্রথম চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেছি।’’

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ ।

মুসল্লীরা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন। এবারও উপজেলার দখলপুর, নারায়নকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন  মুসল্লিরা এ ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বরগুনা
বরগুনায় অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। 

সকাল সাড়ে আটটায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের মধ্য বকুলতলী গ্রামের মল্লিক বাড়ি জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

বিভিন্ন বয়সী শতাধিক মানুষ এ ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বরগুনা সদর উপজেলার পাজরাভাঙ্গা, লাকুরতলা ও গৌরীচন্না, পাথারঘাটা উপজেলার হাতেমপুর, বেতাগী উপজেলার লক্ষ্মীপুরা ও কাজিরাবাদ, বামনা উপজেলার ছোনবুনিয়া, আমতলী উপজেলার গোজখালী এবং তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। 

দীর্ঘ বছর ধরেই বরগুনা সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। একইভাবে তারা ঈদুল আযহা উদযাপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একদিন আগেই এ বছরও তারা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের ঈদ জামাতের ইমাম মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে আমাদের এখানে এমন ধর্মীয় রীতি চালু হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে আমরা এভাবেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। তবে আগে আমাদের লোক সংখ্যা বেশি থাকলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে।’’ 

বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ তাসলিমা আক্তার বলেন, প্রায় অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদযাপন হচ্ছে। ঈদ উদযাপন হওয়া সব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি রাখা হয়েছে, যাতে কোন ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। যারা ঈদ উদযাপন করছে তারা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে শেষে ঈদ পালন করছেন। 

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী দক্ষিণ চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

দরবার শরীফ সূত্র জানায়, অনুসারীরা হানাফি মাজহাবের আলোকে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর ধরে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং চন্দ্র মাসভিত্তিক সকল ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন।

এবারও সেই ধারাবাহিকতায় রোজা পালন শেষে শুক্রবার সকাল ৮টায় মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।

দরবার সূত্র আরও জানায়, সাতকানিয়ার মির্জাখীলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ডসহ বহু স্থানে অনুসারীরা একযোগে ঈদ উদযাপন করছেন।

এছাড়া কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক গ্রামের বহু অনুসারী এই দিন ঈদ উদযাপনে অংশ নিয়েছেন।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াতেও দরবার শরীফের অনুসারীদের ঈদ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।

মির্জাখীল দরবার শরীফের ইমাম মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী হিসেবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকি।

রংপুর 
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর পূর্ব জলীপাড়া গ্রামবাসী ঈদ উদযাপন করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রামের একটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আশপাশের গ্রাম থেকে আসা দেড় শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। 

স্থানীয়রা জানান, এ গ্রামের লোকজন প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন। 

বর্তমানে মাওলানা আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জামাতে শুধু এই গ্রামের মুসল্লি নন, আশপাশের গ্রাম থেকেও মুসল্লি এসে জামাতে অংশ নেন।

মুন্সীগঞ্জ 
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা, মোল্লাকান্দি ও শিলইসহ পাঁচটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।

সকালে এসব এলাকার চার শতাধিক মুসল্লি নামাজে অংশ নেয়। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

স্থানীয়ভাবে অনুসৃত জাহাগীর তরিকার অনুসারীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও এসব এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন হয়েছে।

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কিছু মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস অনুসারীরা মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার ছাদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। 

ঈদের নামাজে ইমামতি করেন আমিনুল ইসলাম। সকাল থেকে সদর উপজেলা, পলাশবাড়ী ও  সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হেঁটে, বাইসাইকেলে, মোটরসাইকেলে ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য মুসল্লিরা আসতে থাকে। পরে তারা স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদে নামাজ আদায় করেন।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুসহ ৩০-৪০ জন মুসুল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। 

জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুজরুক জামালপুর মুসলিম উম্মাহ জামে মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণেও ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নামাজে আসা তালুকঘোড়াবান্ধা গ্রামের সাহারুল ইসলাম ( ৩৩) বলেন, ‘‘সবাই মিলে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলাম। আমরা এভাবেই ১০ বছর ধরে ঈদ করে আসছি।’’ 

একই গ্রামের মোস্তফা বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামের ৮-১০ টি পরিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি।’’ 

একদিন আগে ঈদ পালনে অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঢাকা/রেজাউল/আকাশ/সুজন/অমরেশ/অলোক/সোহাগ/ইমরান/আমিরুল/রতন/মাসুম/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়