ব্যস্ততা ফেলে প্রশান্তির খোঁজে ঈদে সমুদ্রসৈকতে
তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত।
ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে নিজ এলাকায় না থেকে নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন অনেক পরিবার। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ঈদের দিন সকাল থেকে সমুদ্রশহর কক্সবাজারে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরিবারগুলো সমুদ্রের ঢেউ, পাহাড় আর শান্ত পরিবেশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে এসেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়লেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে আসতে থাকেন পর্যটকরা। অনেকেই পরিবার নিয়ে সৈকতে হাঁটাহাঁটি করেন, কেউ আবার সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করেন। বৃষ্টির কারণে রোদ না থাকলেও পর্যটকদের আনন্দে কমতি দেখা যায়নি।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক রুবেল মজুমদার বলেন, “প্রতিবারই ঈদে বাড়িতে থাকি। এবার একটু ভিন্নভাবে কাটানোর ইচ্ছা ছিল। তাই পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে চলে এলাম। ঢাকার যান্ত্রিক জীবন থেকে বের হয়ে এখানে এসে অনেক শান্তি লাগছে।”
পুরান ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, “বাচ্চারা অনেক দিন ধরেই সমুদ্র দেখার কথা বলছিল। ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে তাদের নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। হালকা বৃষ্টি থাকলেও সমুদ্রের পরিবেশটা অন্যরকম সুন্দর লাগছে।”
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক নাঈম হাসান বলেন, “ঢাকায় ঈদের দিন মানেই ট্রাফিক, শব্দ আর ব্যস্ততা। তাই এবার ভাবলাম একটু নিরিবিলি জায়গায় সময় কাটাই। কক্সবাজারে এসে মনে হচ্ছে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।”
শুধু ঢাকা-কুমিল্লা নয়, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেক পরিবার ঈদের দিন কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন।
ময়মনসিংহ শহর থেকে আসা পর্যটক মাহবুবুল আলম বলেন, “আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে পরিবারসহ এখানে এসেছি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে সমুদ্র আর পাহাড়ের মাঝখানে ঈদ কাটাতে বেশ ভালো লাগছে।”
গফরগাঁও থেকে আসা রোকসানা পারভীন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র দেখার ইচ্ছা ছিল। এবার ঈদের দিনটা স্মরণীয় করতে কক্সবাজারে চলে এসেছি। বৃষ্টি থাকলেও পরিবেশটা খুবই শান্ত এবং সুন্দর লাগছে।”
টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক রাসেল হোসেন বলেন, “ঈদের দিন সবাই যখন ব্যস্ত থাকে, তখন আমরা একটু অন্যরকম কিছু করতে চেয়েছি। তাই কক্সবাজারে এসে সমুদ্রের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছি। এটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।”
পর্যটকরা জানান, যান্ত্রিক শহরের কোলাহল, যানজট আর ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে তারা এবার ঈদের দিন কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছেন। সমুদ্রের ঢেউ, পাহাড়ঘেরা সবুজ পরিবেশ এবং নিরিবিলি আবহ তাদের কাছে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সৈকত এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পরিবার নিয়ে আসা অনেকেই ছবি তুলছেন, কেউ বাচ্চাদের নিয়ে সমুদ্রের ধারে খেলছেন, আবার কেউ শুধু বসে বসে ঢেউ দেখেই সময় কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকায় অনেকেই এটিকে ঈদ কাটানোর জন্য উপযুক্ত সময় বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, “ঈদের দিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকরা যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও সমন্বিতভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় জেলা পুলিশের টিম ও বিভিন্ন সাদা পোশাকের টহল দল রয়েছে।”
ঢাকা/বকুল