ঢাকা     শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ১৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আয়ের সাফল্যে নতুন চূড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর

​নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:১২, ২ জানুয়ারি ২০২৬  
আয়ের সাফল্যে নতুন চূড়ায় চট্টগ্রাম বন্দর

​দেশের অর্থনীতির কিডনি খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫ সালে আয়ের সাফল্যে নতুন চূড়ায় পৌঁছেছে। 

রাজনৈতিক ও সংস্কার বিরোধিতার অস্থিরতার মধ্যেই সদ্যবিদায়ী বছরে বন্দরটি ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।

আরো পড়ুন:

একই সঙ্গে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রেখে বড় অঙ্কের রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারকে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিতে পেরেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

​চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক মো. ওমর ফারুকের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বন্দর পরিচালক ওমর ফারুক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, বর্তমানে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

​২০২৫ সালে বন্দরের কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং- তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, জানান ওমর ফারুক।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে মোট ​কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস, এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.০৭ শতাংশ। ​কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিকটন, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৪৩ শতাংশ। ​জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ২৭৩টি, এক্ষেত্রেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে; আর তা হলো ১০.৫ শতাংশ।

জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালিত টার্মিনালগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

​দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন
​ধর্মঘট ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের বড় একটি সময় জাহাজের ‘ওয়েটিং টাইম’ বা অপেক্ষমাণ সময় ছিল শূন্য। বর্তমানে বন্দরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জাহাজগুলো বার্থিং সুবিধা পাচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ ছিল ২ দশমিক ৫৩ দিন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিজিটালাইজেশন ও পোর্ট ইকোসিস্টেম আধুনিকায়নের ফলে ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস রিপোর্টে বন্দরটি ‘জিরো অবজারভেশন’ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে

​ভবিষ্যৎ মেগা প্রকল্প
​বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে ৭০ হাজার বর্গমিটারের নতুন ইয়ার্ড ও আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​বে টার্মিনাল: ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বে টার্মিনালের ব্রেকওয়াটার ও ড্রেজিং প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। এর টার্মিনালগুলো সিঙ্গাপুরের পিএসএ এবং দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

​লালদিয়া টার্মিনাল: ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি হয়েছে। ২০২৯ সাল নাগাদ এই টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

পানগাঁও টার্মিনাল: সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক মেডলগ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দর পরিচালনার জন্য ২২ বছরের জন্য চুক্তি করেছে।

​আধুনিকায়ন ও নতুন টার্মিনালগুলো পুরোদমে চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানের লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরের যেকোনো কিছু ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা রয়েছে দেশের একাংশের মানুষের।

ঢাকা/রেজাউল/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়