ঢাকা     শুক্রবার   ১৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২ || ২৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত খুলনার নববধূসহ ৩ জনকে দাফন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ১৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১১:৪৭, ১৩ মার্চ ২০২৬
রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত খুলনার নববধূসহ ৩ জনকে দাফন 

সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন মারা যাওয়া নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুর স্বজনরা।

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতেদের মধ্যে খুলনার কয়রায় নববধূসহ তার পরিবারের তিন সদস্যকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পরিবারের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। 

আরো পড়ুন:

নিহতদের স্বজন আব্দুস সোবাহান জানান, আজ সকাল ১০টায় উপজেলার নাকসা গ্রামের ছালাম মোড়লের মেয়ে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু (১৮), তার ছোট বোন লামিয়া (১১) এবং মিতুর দাদি  রাশিদা বেগমের (৭৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি জানান, মারা যাওয়া নববধূ মিতুর নানির জানাজা বিকেলে কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে হবে। মিতুর বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের নিহতদের জানাজা আজ বাদ জুমা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজের কাছে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন মারা যান। খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যাওলাবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন বর মো. সাব্বির। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুই পরিবারের ১৩ জন সদস্য।

 

নিহতরা হলেন- বর সাব্বির (৩০), নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানি আনোয়ারা (৭০), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫), বোন লামিয়া (১২), বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), বরের ভাবি পুতুল (৩৫), আলিফ (১২), বরের বোন ঐশি (৩০), ঐশির স্বামী সামিউল, আব্দুল্লাহ সানি, দেড় বছরের শিশু ইরামম ফাইম শিকারি ও মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৪০)।

নিহতদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আনা হয় বলে জানান হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ। বাকি চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী।  

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বিকেল ৪টার দিকে মোংলা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। 

খুলনা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া বলেন, ‍“দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে।”

ঢাকা/নূরুজ্জামান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়