এক বছরের নিচে শিশুদের কী গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
বাংলাদেশ ও ভারতসহ উপমহাদেশের অনেক পরিবারে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানোর প্রচলন বহু পুরোনো। অনেকের ধারণা, গরুর দুধ একটি সম্পূর্ণ সুষম খাবার। তাই ছোট শিশুদেরও দুধ এবং দুধজাত খাবার—যেমন ছানা, দই, ক্ষীর বা পনির—দেওয়া হয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে গরুর দুধ নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসের সুষম উপস্থিতি হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে। দুধে থাকা কেসিন ও হোয়ি—এই দুই ধরনের প্রোটিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেসিন ভেঙে তৈরি হওয়া কেসিন ফসফোপেপটাইডস ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ শোষণে সহায়তা করে।
এছাড়া দুধে থাকা ল্যাক্টোফেরিন নামের শক্তিশালী প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। তবে এত গুণ থাকা সত্ত্বেও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা এক বছরের নিচে শিশুদের গরুর দুধ না খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কেন এক বছরের আগে গরুর দুধ দেওয়া ঠিক নয়
১. অতিরিক্ত প্রোটিনের চাপ
গরুর দুধে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি। এক বছরের নিচে শিশুদের পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র এত বেশি প্রোটিন সহজে হজম করতে পারে না।
২. অ্যালার্জির ঝুঁকি
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গরুর দুধ থেকে অ্যালার্জি হতে পারে, যাকে বলা হয় কাউ মিল্ক প্রোটিন অ্যালার্জি। এতে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. আয়রনের ঘাটতির সম্ভাবনা
গরুর দুধে থাকা আয়রন শিশুদের শরীরে সহজে শোষিত হয় না। ফলে এক বছরের নিচে নিয়মিত গরুর দুধ খেলে শিশুর অ্যানিমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৪. কিডনির উপর চাপ
গরুর দুধে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা মায়ের দুধের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। এতে ছোট শিশুদের কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাহলে কখন থেকে দুধজাত খাবার দেওয়া যায়। শিশুর বয়স ৭–৮ মাস হলে অল্প পরিমাণে কিছু দুধজাত খাবার দেওয়া যেতে পারে, যেমন—ছানা, দই। তবে এগুলোও খুব অল্প পরিমাণে এবং ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত।
এক বছর পর কীভাবে গরুর দুধ শুরু করবেন
শিশুর বয়স ১ বছর পার হলে গরুর দুধ দেওয়া শুরু করা যায়। শুরুর সময় কিছু নিয়ম মানা ভালো— প্রথমে দুধের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে দিন। যদি কোনো সমস্যা না হয়, ১–২ সপ্তাহ পরে পানি ছাড়া দুধ দেওয়া যেতে পারে। বাজারের প্যাকেটজাত দুধ বা ভালোভাবে ফুটানো খোলা দুধ—দুটিই দেওয়া যেতে পারে।
দিনে কতটা দুধ দেওয়া নিরাপদ
এক বছরের বেশি বয়সী শিশুকে দিনে ৪০০–৫০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ দেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত দুধ খেলে— শিশুর পেট ভরে যায়। অন্য খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা/লিপি