RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিপ্রেশন

চৈতি দাস || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫০, ১৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ডিপ্রেশন

বর্তমানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ 'ডিপ্রেশন'। এর বাংলা অর্থ বিষণ্ণতা। একে আমরা মন খারাপ বলে থাকি।

কোনো কাজে সফলতা না আসলে আমাদের মন খারাপ হয়। তথাকথিত পরিচিত ভাষায় আমরা ডিপ্রেশনে চলে যাই। আসলেই কি তাই? নাকি বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে ডিপ্রেশনে ভুগি।

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একটি আবেগজনিত মানসিক রোগ। সহজ ভাষায় মনের রোগ। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, বাবা-মা শাসন করেছে, বন্ধুদের সাথে কিংবা প্রিয়জনের সাথে ঝগড়া হয়েছে এসব বিভিন্ন কারণে আমরা মন খারাপ করি। তখন যুগের সাথে তাল মেলাতে বলি ডিপ্রেশনে আছি।

বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী ডিপ্রেশনে ভোগে। কেউ পারিবারিক কারণে, কেউ পড়াশোনা নিয়ে, কেউ আর্থিক সমস্যার কারণে বিষণ্ণতায় ভোগে। আবার কেউ কেউ একাকিত্বের কারণে ডিপ্রেশনে ভোগে। যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন, তারা দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ করে থাকেন। তাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে এবং এরা সবসময় একা থাকতে পছন্দ করেন।

এরা নিজেদেরকে খুব অযোগ্য মনে করেন। সময় সময় এদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। পেছনের ব্যর্থতা বারবার সামনে চলে আসে। তখন তারা নিজের ভবিষ্যৎটাকে অন্ধকার বা অনিশ্চিত বলে মনে করেন।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় খুঁজলে বেশির ভাগ সময় আমরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেই। আত্মহত্যা বা সুইসাইডও বর্তমানে একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিতে না পেরে, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে আত্মহত্যা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বর্তমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটছে।

আবার কেউ কেউ ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ডিপ্রেশনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছু দিন আগে পটুয়াখালীর একটি স্কুলের মেয়ে সাথী প্রেমঘটিত কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।  এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে।

এডমিশন টেস্ট দেয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন   শব্দটি বহুল পরিচিত। তারা মনে করেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়া মানেই জীবনে আর কিছু করতে পারবে না। জীবনে কোনো সফলতা আর আসবে না। এই ধারণা নিয়েই অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কেউবা ডিপ্রেশনকে কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। ছুটে চলে স্বপ্ন পূরণের আশায়। তবে, অনেকেই ভেঙে পড়েন।

ছোট ছোট বিষয় নিয়েও আমরা অযথা মন খারাপ করি। বলতে পারি, যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য 'ডিপ্রেশন'। এই আবেগজনিত মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে।

মনে রাখতে হবে, স্বপ্নটাও গণতান্ত্রিক হতে হবে। স্বপ্ন একটা দেখলে হবে না। বিকল্পও দেখতে হবে। হেলেন কেলারের মতো অন্ধ, বোবা, শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ যদি ১৪টি বই লেখে পৃথিবীতে আলোচিত-সমালোচিত হতে পারেন, সফল হতে পারেন, তাহলে আমাদের মতো সুঠাম-সুস্থ দেহের অধিকারীরা কেন পারবো না। এই প্রশ্নটিই হোক আমাদের পাথেয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ), কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা।


ঢাকা/চৈতি দাস/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়