গণভোটের রায় না মানলে ‘ম্যান্ডেটও` টিকবে না
ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জনগণের ৭০ শতাংশের রায় উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকারের ৫১ শতাংশ ম্যান্ডেটও শেষ পর্যন্ত টিকবে না, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণই তা প্রত্যাখ্যান করবে। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জুবায়ের। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত মশাল মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জুবায়ের বলেন, “প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু, এখন তারা সেই গণরায় থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছেন।” তার ভাষায়, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
তিনি অভিযোগ করেন, “পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কাঠামোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। গণভোটের রায় উপেক্ষা, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ, মানবাধিকার কাঠামো দুর্বল করা এবং বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, এসব পদক্ষেপ একই উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।”
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, “নতুন আইনে তদন্তের জন্য সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হলে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।” এতে অপরাধীদের রক্ষা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। এটি দুর্বল হয়ে গেলে গুম প্রতিরোধ আইনসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, যা আইনের শাসনের জন্য হুমকি।
সরকারকে সতর্ক করে জুবায়ের বলেন, “জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।”
ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত