ঢাকা     সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১০ ১৪২৮ ||  ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন্ধু বিদায়...

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ২৯ নভেম্বর ২০২১  
বন্ধু বিদায়...

ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, গ্রুপ স্টাডি, ঘোরাঘুরি, ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষা নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে কখন যে জীবনের সেরা দিনগুলো শেষ হয়ে যায়, তা কেউ টেরই পায় না। হঠাৎ বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। বিদায় নামক অপ্রিয় সত্যটি সবার জীবনেই আসে। ঠিক যেভাবে এসেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সদ্য শেষ স্নাতকোত্তর (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের। গত ১৬ নভেম্বর ভাইবা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পাস জীবনের ইতি টেনেছেন তারা।

শিক্ষাজীবনের শেষ বেলার স্মৃতিগুলো স্মরণীয় করে রাখতে শেষবারের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবে মিলিত হয়েছেন তারা। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সকালে র‌্যালি ও ফটোসেশন, দুপুরে খেলাধুলা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তারা। বিভাগ থেকে তাদের জন্য বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও প্রত্যেক ব্যাচের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণে জমে উঠেছিল দিনটি।

১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনা হক ইমা বলেন, একজন বিদায়ী শিক্ষার্থী বোঝেন বিদায় কতটা কষ্টের। ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি বছর একসঙ্গে থেকেছি। বন্ধু, বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কত স্মৃতি, কত মায়া রয়েছে। সব ছেড়ে চলে যেতে হবে নিজ নিজ গন্তব্যে। হয়তো আবার তৈরি হবে নতুন পৃথিবী। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কয়টা বছরের স্মৃতি যেন কখনোই ভোলার নয়। শেষ বেলায় শুধু এটাই বলবো, যে যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক সবাই।

বিদায়ী শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো উন্মুক্ত জ্ঞানের উদ্যান, নিজ বিভাগ হলো সেই উদ্যানের শ্রেষ্ঠ একটি ফুল গাছ। প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা সেই ফুল গাছের অতিথি পাখি হয়ে আপন করে নেয় ক্যাম্পাস আর বিভাগকে। সময় গড়িয়ে বেলা পেরিয়ে সবাইকে সেই গাছ কিংবা উদ্যান ছেড়ে চলে যেতে হয়। ততদিনে হাজারো স্মৃতির পাতায় পাওয়া না পাওয়ার হিসাবের অংকটা বড় ভারী হয়ে যায়।

সোহানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অজান্তেই অসংখ্য স্মৃতি তৈরি হয়েছে। প্রিয় বন্ধুদের ফেলে যাওয়ার অনুভূতি নিশ্চই দু’একটি কথায় প্রকাশ করা কঠিন কাজের একটি। সুখ-দুঃখ, রেষারেষি, সময়ে-অসময়ে, কাজে-অকাজে পাশে পাওয়া বন্ধুরা হৃদয় মন্দিরে চিরসবুজ থাকলেও বাস্তবতার কঠিন নিয়ম সবাইকে দূরে ঠেলে দেয় একসময়। চলে যেতে হয় অনেক অনেক দূরে।

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান কমল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষক, বন্ধু, বড়-ছোট অনেক ভাইবোনের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। তাদের কখনোই ভুলবো না। হয়তো আবার দেখা হবে গোলাকার পৃথিবীর কোনো এক কানাগলিতে। হয়তোবা আর দেখা নাও মিলতে পারে। ভাবনাটা যত নিষ্ঠুরই মনে হোক এটাই বাস্তবতা। চেষ্টা করবো বিভাগ থেকে এই কয়েক বছরে যে জ্ঞান অন্বেষণ করেছি, তা ছড়িয়ে দেওয়ার। সবার দোয়া কামনা করছি।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়