ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৩ ১৪৩১

নানা আয়োজনে গবিতে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

গবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
নানা আয়োজনে গবিতে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

'বাঙালির কৃষ্টি পিঠা সৃজন অপুর্ব সৃষ্টি' স্লোগানকে ধারণ করে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চমবারের মতো পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মুহাম্মদ লুৎফর রহমান।

এ উৎসবে শিক্ষার্থীরা নানা নামের বাহারি নকশার মুখরোচক পিঠা নিয়ে হাজির হন। নারকেল পুলি, ইলিশ পিঠা, দুধ পুলি, ভাপা, পোয়া, পাটিসাপটা, ঘর কন্যা, কুটুম, হাতকুলিসহ মেলায় বাহারি পিঠার পাশাপাশি হরেক রকমের মিষ্টি, কেক, চা ও লাড্ডু বিক্রি করা হয়। এছাড়া চুড়ি, ফিতা এবং গোলাপ ফুলও বিক্রি দেখা যায় অনেককে।

উৎসবে স্টল ছিল মোট ২৭টি। তাদের নামগুলোও ছিল বাহারি। টোনাটুনির পিঠাঘর, ঢেঁকির বৈঠকখানা, নাইওর, পিঠা জাদুঘর, পৌষের প্রেমসহ । শিক্ষার্থীরা বাঁশের চাটাই, খড়কুটো, কলাগাছ দিয়ে স্টলগুলো সাজিয়ে গ্রামীণ পরিবেশের আবহের সৃষ্টি করেছেন। আলপনা, বেলুন, প্ল্যাকার্ড আর ফেস্টুনে সাজানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পিঠা উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হলো, বিভিন্ন স্টলের সামনে সেলফি স্ট্যান্ড।

খাতামুল খালিদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শহরের যান্ত্রিকতা ও ব্যস্ততার কারণে গ্রামীণ পিঠা হারিয়ে যাচ্ছে। সব স্টল এতো সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, মনে হচ্ছে এখন গ্রামেই আছি। এই উৎসবে নানাবাড়ি, দাদাবাড়ির সেই গ্রামের পিঠা খাওয়ার আমেজ ফিরে পেলাম।

মেলার উদ্বোধন শেষে মুহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সম্পদ, এই এলাকার সম্পদ এবং এদেশের সম্পদ। আপনারা এসেছেন এখানে পড়াশোনা করতে। তাই লেখাপড়ার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরকে তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় আজকের এই পিঠা উৎসব। শিক্ষার্থীরা এতো কম সময়ে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে, এজন্য কমিটির সদস্যসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস তাসাদ্দেক আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবু হারিসসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

উৎসবে পিঠা প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল- গ্রামীণ খেলাধুলা, ডিবেট ক্লাবের আয়োজনে আঞ্চলিক বিতর্ক অনুষ্ঠান, সেরা স্টল নির্বাচন এবং পুরস্কার বিতরণ। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও মিউজিক সোসাইটির পরিবেশনায় নৃত্য ও লোকগান পরিবেশন করা হয়।

/সানজিদা/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়