ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাবির আওয়ামীপন্থি ৩ কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ

রাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০০, ১৭ জুলাই ২০২৫  
রাবির আওয়ামীপন্থি ৩ কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ

রাবির আওয়ামীপন্থি ৩ কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আওয়ামীপন্থি তিন কর্মকর্তাকে পুলিশে দিয়েছে সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কর্মরত অবস্থায় তাদের আটক করে লিগ্যাল সেলে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে আসে।

আরো পড়ুন:

তাদের বিরুদ্ধে জুলাই আগস্টে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলাও রয়েছে। তারা এজাহরভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক।

ওই তিন কর্মকর্তা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পঙ্কজ কুমার, অর্থ ও হিসাব শাখার উপ পরিচালক আমিনুল হক, অর্থ ও হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাসুদ।

আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, “আমরা গত সপ্তাহে দাবি জানাতে এসেছিলাম রেজিস্ট্রারের কাছে। তিনি আজ আমাদের সময় দিয়েছিলেন। আমরা আজ আসার পর তিনি আমাদের পাত্তাই দিচ্ছেন না। স্যার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই আমরা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমরা তাদের লিগ্যাল সেলে আসতে বলি। পরে স্যার তাদের প্রক্টর দপ্তরে রেখে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। এখন দেখা যাক, তারা কি করেন। আমরা যাদের ধরেছি, তারা সবাই এজাহার ভুক্ত আসামি।”

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, “এরা সবাই একেকজন আওয়ামী লীগের ক্যাডার। ২০১৮ সালে তারা আমাদের উপর হামলা করেছে। জুলাই-আগস্টেও তারা আমাদের উপর হামলা করেছে। কিন্তু তারপরও তারা এখনো চাকরি করে যাচ্ছে। ১ বছর হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আজ আমরা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিলাম।”

এজাহারভুক্ত আসামি সেকশন অফিসার পঙ্কজ কুমার বলেন, “আমি কখনো শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিনি। আন্দোলন চলাকালে আমি বাসাতেই ছিলাম। ৫ আগস্ট আমি বাসা থেকেই বের হইনি। শুনেছিলাম আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, কিন্তু কেউ কখনো কিছু বলেনি। আজ হঠাৎ তারা আমাকে ধরে আনছে। কেনো ধরছে আমার জানা নেই।”

আরেক এজাহার ভুক্ত আসামি আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “আব্দুস সোবহান স্যারের (সাবেক উপাচার্য) আমলে আমি নিজে ছাত্রলীগের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছি। আমি কখনো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কিছু করিনি। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করলেও চাকরি জীবনে কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। কোনো শিক্ষার্থীর ওপর কখনো হামলাও করিনি। শুনেছিলাম মামলা হয়েছে কিন্তু বিস্তারিত জানি না। আজ যারা আমাদের ধরেছে, মনে হচ্ছে তারা জামায়াত শিবির।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন জুলাই বিপ্লব চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইতিহাস বিভাগের ২০০৮-০৯ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মুস্তফিজুর রহমান বলেন, “১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ছাত্রদের ওপর তারা হামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। কিন্তু তারা আইন অমান্য করে জামিন না নিয়ে এখনো চাকরি করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কোনো দোসর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে থাকতে পারবে না। যেখানে থাকবে সেখানে আমরা প্রতিবাদ জানাব।”

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। তাই তাদের নিয়ে যাচ্ছি। তারা এজাহারভুক্ত আসামি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। মতিহার থানা পুলিশ আমাকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখিয়েছে। তাই আমি তাদের নিয়ে যেতে দিয়েছি। তবে সাবেক শিক্ষার্থীরা যেটা করছে, এটা কখনোই কাম্য না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মরত অবস্থায় তারা এভাবে ধরে নিয়ে যেতে পারে না। এটা পুলিশের কাজ, পুলিশ করবে। পরেরবার থেকে আমি এটা মোটেও মেনে নেব না।”

ঢাকা/ফাহিম/মেহেদী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়