ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১১ ১৪৩২ || ৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাজিদের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ইবিতে ফের আন্দোলন

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ২৯ জুলাই ২০২৫  
সাজিদের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ইবিতে ফের আন্দোলন

ফের আন্দোলনে ইবি শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে ফের আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারলে প্রশাসনকে গদি খালি করার আহ্বান জানান তারা। 

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপাচার্য অধ্যাপক ড নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এসে আগামী সপ্তাহের রবিবার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়া আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন।

আরো পড়ুন:

আন্দোলনের ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ শতাধিক শিক্ষার্থী ‍উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পারলে আজই রিপোর্ট দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘তুমি কে আমি কে, সাজিদ সাজিদ’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশান’, ‘প্রশাসনের টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রশাসন কী করে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ক্যাম্পাসে লাশ পড়ে, প্রশাসন কী করে’, ‘উই উই ওয়ান্ট, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। 

শিক্ষার্থীরা জানান, সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও আমাদের প্রশাসন এখনো ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে। সাজিদের লাশ ভেসে ওঠার পরেও সেদিন প্রশাসনের কাউকে পাওয়া যায়নি। গত শনিবার শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সাজিদের মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। প্রশাসনের টালবাহানা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যদি আজকের মধ্যে প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করে তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো। 

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই আমরা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলেছি, অগ্রগতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেছি। সাজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য বিষয়ে আমাদের যুক্ত করতে হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সাজিদের সুরতহাল রিপোর্ট, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার ভিসেরা রিপোর্টের ব্যাপারে আমরা তাগাদা দিয়েছি, আজ বিকেলে অথবা আগামীকাল আমরা সেটি হাতে পাব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেব।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “সাজিদের মৃত্যুতে সবার মত আমিও সমভাবে ব্যথিত, আমিও ন্যায়বিচার চাই। প্রশাসন সাজিদের মৃত্যুকে কোনোভাবেই ধামাচাপা দিতে চায় না, এই নিশ্চয়তা তোমাদের দিচ্ছি। এ কমিটি যদি মৃত্যু রহস্য বের করতে না পারে, তাহলে সিআইডি দ্বারা তদন্ত করানো হবে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত করানো হবে। প্রয়োজনে আমরা পিবিআইকে দায়িত্ব দেব। আমি সামান্যভাবেও এটাকে ছেড়ে দেব না, আমরা এর শেষ দেখতে চাই।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছি। তোমাদের উত্থাপিত দাবি অনুযায়ীই আমরা কাজ করছি। ক্যাম্পাসে এসেই আমি তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ডিআইজি সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাকেও অতিদ্রুত ভিসেরা রিপোর্ট দিতে বলেছি। ভিসেরা রিপোর্ট আসার পরেই তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পারবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আ ব ম ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, আল কুরআন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন মিঝি, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।

ঢাকা/তানিম/মেহেদী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়