ঢাকা     সোমবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মাস্টার্স প্রোগ্রাম নীতিমালা সংশোধন: বিতর্কে জবি

জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬  
মাস্টার্স প্রোগ্রাম নীতিমালা সংশোধন: বিতর্কে জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নিয়ম হঠাৎ পরিবর্তন করে সহযোগী অধ্যাপকদের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হওয়ার সুযোগ বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়ায় অনুষদের একাংশের শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী অধ্যাপক ক্ষমতা ও আর্থিক সুবিধা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এ নীতিমালা পরিবর্তন করছেন।

আরো পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী এতদিন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক—উভয় পদমর্যাদার শিক্ষকই প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য ছিলেন। এ নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকরা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এতে প্রশাসনিক কাজে যেমন গতিশীলতা ছিল, তেমনি দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় থাকত।

তবে সম্প্রতি নীতিমালা সংশোধন করে সহযোগী অধ্যাপকদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষকদের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালাটি গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, এই নীতিমালা সংশোধনের পেছনে শিক্ষার মান উন্নয়ন বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট যুক্তি নেই। বরং এর মাধ্যমে কিছু অধ্যাপক মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রাম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্মানী, সুযোগ-সুবিধা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করার সুযোগ তৈরি করছেন। সহযোগী অধ্যাপকদের প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে ওই ক্ষমতা একটি সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত থাকবে বলে তারা মনে করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহযোগী অধ্যাপকরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষকদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অথচ শুধুমাত্র পদমর্যাদার অজুহাতে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা বৈষম্য এবং পেশাগত অবমূল্যায়নের শামিল।

আরো অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের মাস্টার্স প্রফেশনাল প্রোগ্রামের নীতিমালায় এখনো সহযোগী অধ্যাপকদের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ বহাল রয়েছে। ফলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর একই ধরনের প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে, যা নীতিগত অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন শুধু লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদেই সহযোগী অধ্যাপকদের এভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভাজন আরো বাড়াতে পারে। সহযোগী অধ্যাপকরা নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করলে তা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব একচেটিয়া হয়ে পড়লে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। আগের নীতিমালা বহাল রেখে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক উভয়ের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে চলমান সংকট অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে। তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও অংশীজনদের মতামত প্রতিফলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোষ্ঠীস্বার্থে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনও কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হলেও আরও কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সবার সঙ্গে আলোচনা করছি। কাউকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে না।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় প্রফেশনাল প্রোগ্রাম নিয়ে সব অনুষদের জন্য একটি ইউনিফাইড নীতিমালা থাকুক। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কমিটি কাজ করছে। তারাই সব দিক বিবেচনা করবে। আমরা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবো। এখনো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কারও কোনো প্রশ্ন বা সংশয় থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করা যেতে পারে।”

ঢাকা/লিমন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়