ঢাকা     শনিবার   ২০ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩৩ || ৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মূল্যস্ফীতির চাপে একাধিক কাজ করছেন তরুণরা: ফারাহ কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ২০ জুন ২০২৬  
মূল্যস্ফীতির চাপে একাধিক কাজ করছেন তরুণরা: ফারাহ কবির

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল বাজেট বিশ্লেষণে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ।

দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ জীবিকার ব্যয় সামাল দিতে একাধিক পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ একসঙ্গে তিনটি কাজও করছেন। এমনকি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

আরো পড়ুন:

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত বাজেট বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে এসব বিষয় তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ফারাহ কবির বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ দুর্যোগ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম হিসেবে পরিচিত। তবে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের সহনশীলতা এখন চরম পরীক্ষার মুখে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় ন্যূনতম মজুরি না থাকায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়ছে। বাস্তবতা হলো, অনেক তরুণ এখন সংসারের ব্যয় মেটাতে একাধিক চাকরি বা কাজ করছেন। কেউ কেউ তিনটি পর্যন্ত পেশায় যুক্ত রয়েছেন। অনেক পরিবার ব্যয় কমাতে খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কমানো হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে। এ কারণে বাজেট ঘোষণার পর পণ্যমূল্যে বড় ধরনের কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই কর-সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বহাল না থাকলে ভবিষ্যতে আবারো পণ্যের দাম বাড়তে পারে।”

তিনি বাজেট ও অর্থবিলে ঘোষিত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ আবদুল মজিদের মতে, “শুধু কর বা শুল্ক কমানোই যথেষ্ট নয়, বাজারে তার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাজেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”

তার ভাষ্য, “আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও কিছু ক্ষেত্রে করহার বৃদ্ধির কারণে করদাতারা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।”

ফারাহ কবির বলেন, “বর্তমানে বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি না হলেও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, তাদের ব্যবসাও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “শুধু ঢাকা শহরের চিত্র দেখে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই ব্যতিক্রমধর্মী। কিন্তু দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখনও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আয় সংকটের চাপ অনুভব করছে।”

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মাইনুল ইসলাম, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক এবং মালালা ফান্ডের সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোশাররফ তানসেনসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা/তুহিন/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়