নাইম-মিলির ‘টিনের চালে কাক’
মোখলেছুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম
টিনের চালে কাক নাটকের একটি দৃশ্য
মোখলেছুর রহমান : আর পাঁচ দিনের মতই অফিসের কাজে ব্যস্ত আনিস সাহেব। হঠাৎ তার মোবাইলে একটা কল আসে। নাম্বারটা আনসেভড। কলটা ধরবে কী, ধরবে না এই চিন্তা করতে করতে অবশেষে রিসিভ করে। একটা অপরিচিত মেয়ের ফোন। কথা বলা শুরু করতেই অফিসের বস তাকে ডেকে বসে। মাঝপথে কথা থামিয়ে বসের রুমে যান তিনি। মেয়েটা কে, কেন তার কাছে কল করেছিল তার কিছুই জানা হয় না। এসব নিয়ে আনিস সাহেবের মনে একটা বিচলিত ভাব থেকে যায়।
তার এই বিচলিত ভাবটা অফিসের পর বাসায় আসার পরও লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টা আনিস সাহেবের স্ত্রী মেহেরুনের চোখ এড়ায় না। স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে মেয়েটির বিষয়ে বলেন তিনি। এরপর বেধে যায় আরেক বিপত্তি। স্ত্রী মেহেরুন তাকে সন্দেহ করা শুরু করেন। মেহেরুন মনে করেন বুড়া বয়সে তার স্বামীর ভিমরতিতে ধরেছে, স্বামী কারো প্রেমে পড়া শুরু করেছে।
সন্ধ্যার পর আবার ফোন করে মেয়েটি। কিন্তু এবারও তার সব কথা শোনা হয়না আনিস সাহেবের। অন্য রুম থেকে হঠাৎ স্ত্রী মেহেরুনের চিৎকারে কথা শেষ না করেই ফোন রেখে দিতে হয়। এভাবে যতবারই মেয়েটা ফোন করে ততবারই কোনো না কোনো কারণে সব কথা শোনা হয় না। ক’বারের ফোনে এতটুকু জানা যায়, মেয়েটির নাম মায়া। বিশেষ একটা বিপদে পড়ে মেয়েটি ফোন করেছে এবং এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সে আনিস সাহেবের সাহায্য চাই।
এদিকে আনিস সাহেবের স্ত্রী, মেহেরুনের সন্দেহ দিনদিন আরো দানা বাধে। আনিস সাহেব মেয়েটির ব্যাপারে সত্যটা জানালেও মেহেরেুনের সংশয় দূর হয় না। মেহেরুনের ধারণা, এইবার বুঝি তার এতদিনের সাজানো সংসার ভাঙতে বসেছে। তিনি স্বামী আনিস সাহেবের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা শুরু করেন।
অন্যদিকে আনিস সাহেবের মনেও কিছু প্রশ্ন দেখা দেয়। মায়া মেয়েটি কে, তার ফোন নম্বর পেল কোথায়, কেনইবা সে তার ব্যক্তিগত সমস্যা আনিস সাহেবকে বলতে চায়, আর তিনি এ সমস্যার ব্যাপারে মেয়েটিকে কী সাহায্য করতে পারেন? ইত্যাদি নান প্রশ্নে আনিস সাহেব নিজেও দিদ্বান্বিত হন। একবার ভাবেন আর মেয়েটির সঙ্গে কোনো কথা বলবেল না। আবার ভাবেন, মেয়েটি কোন বিপদের কথা তাকে বলতে চায়। মেয়েটি আসলে কী চায় তার কাছে? আবার ভাবে, মেয়েটির সমস্যা কী তাও তো জানা হল না।
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা শেষে একদিন মায়া আনিস সাহেবকে তার সমস্যার কথা খুলে বলে। মায়া একটি ছেলেকে খুব ভালোবাসে, ছেলেটিও তাকে ভালোবাসে। ছেলেটি ডাক্তার, নাম অসীম। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। সে মায়াকে ভালোবাসলেও বাবা মা’কে উপেক্ষা করে মায়াকে বিয়ে করা তার পক্ষ্যে সম্ভব না। আর তার বাবা মাও মায়াকে তাদের ছেলের বৌ করে নিতে রাজী হবে না, কারণ মায়া একটি বেসরকারী অফিসে সাধারণ মানের চাকুরী করে। মায়াকে ছেড়ে যাওয়াও তার সম্ভব না, আবার একা একা বিয়ে করারও সাহস নেই। এ অবস্থায় কী করে সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যায় সে ব্যাপারে মায়া আনিস সাহেবের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রার্থনা করে।
মায়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আনিস সাহেবের মনে একধরনের সহমর্মিতা জেগে ওঠে। মেয়েটি (মায়া) তার অপরিচিত হলেও কিছুদিনের কথাবার্তায় একটা আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। মায়ার এ ব্যক্তিগত সমস্যা তাকে ছুয়ে যায়। অসহায় একটা মেয়ে তার কাছে বিপদে পড়ে সহযোগিতা চেয়েছে। সে এড়িয়ে যায় কীভাবে? তার মনে মায়ার প্রতি মমতা জাগ্রত হয়।
আবার অন্যদিকে মায়ার সঙ্গে আনিস সাহেবের কথাবার্তা বলা নিয়ে স্ত্রী মেহেরুনের শংকা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। মেহেরুনকে তিনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু কোনোরকম বোঝাতে পারে না । স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে, সংসার বিপন্ন হবার পথে যায়।
আনিস সাহেব বিভিন্ন বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে মায়াকে সাহায্য করতে থাকে। মায়া তার পরামর্শ মোতাবেক কাজ করে যায়। অবশেষে দেখা যায় মায়া তার প্রেমিক অসীমকে বিয়ে করে বাসায় এসে ওঠে। ছেলে বিয়ে করে এনেছে এই খুশীতে অসীমের মা মেহেরুন আত্মহারা কারণ, স্বামী আনিস সাহেব অর্থবান ঘরের যথেষ্ট যোগ্য আর মোটা অংকের যৌতুক ছাড়া তার ছেলেকে কিছুতেই বিয়ে দিতে রাজী ছিল না।
অন্যদিকে আনিস সাহেব মায়াকে তার ছেলের বৌ হিসেবে নিজের ঘরে দেখে কিংকর্তব্যমিূঢ় হয়ে পড়েন। কী করবেন কিছুই বুঝতে পারেন না। ভাবেন, মায়াকে সহযোগীতা করে তিনি তার নিজের পায় কুড়াল মেরেছেন। এখন কী আর করবেন!
সম্পর্কের এমনই নানা জটিলতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘টিনের চালে কাক’। নাটকটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আশরাফ দিপু। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাইম, ফারহানা মিলি, লুৎফর রহমন জর্জ, সাবেরী আলম প্রমুখ। নাটকটি ১৬ আগস্ট রাত ৯টায় এনটিভিতে প্রচারিত হবে।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ আগস্ট ২০১৫/ফিরোজ
রাইজিংবিডি.কম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু