ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

করোনা শিখিয়েছে কে আপন, কে পর: ন্যানসি

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২০, ৬ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
করোনা শিখিয়েছে কে আপন, কে পর: ন্যানসি

শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। করোনার প্রকোপে দীর্ঘ পাঁচমাস স্বেচ্ছা গৃহবন্দি ছিলেন। সাধারণত ঈদে স্টেজ শো, টিভি অনুষ্ঠান এবং গান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারে ভিন্ন। এই মহামারি মানুষের অনেক ভাবনা বদলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ন্যানসির ভাবনা জানার চেষ্টা করেছেন রাইজিংবিডির বিনোদন প্রতিবেদক আমিনুল ইসলাম শান্ত।

রাইজিংবিডি: পৃথিবীর অনেক মানুষের মতো আপনিও গৃহবন্দি। এই সময়ে আপনার আত্মপলব্ধি জানতে চাইছি।

ন্যানসি: করোনার পর জানতে পেরেছি, আমরা কতটা উশৃঙ্খল! ফেসবুকে কমেন্টসের ঘর মন্তব্যে ভর্তি। অসংখ্য মানুষ মন্তব্য করেছেন— আপনারা গান-বাজনা করে করোনা নিয়ে এসেছেন। আমাদের সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ, আমরা অনেক অতিথিপরায়ণ জাতি, বাঙালি অনেক আবেগপ্রবণ- এটাও জানতাম। এসবের সঙ্গে যুক্ত হলো- আমরা এখনো বর্বর। একথা বলতে আমার দ্বিধা নেই। আরেকটি বিষয় উপলব্ধি করেছি— দিন শেষে পরিবারটাই আপন। কারণ করোনা শিখিয়েছে কে আপন, কে পর।

রাইজিংবিডি: বেঁচে থাকার জন্য মানুষের আসলে কী প্রয়োজন?

ন্যানসি: প্রচুর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা প্রেমিক বা স্বামীর কাছ থেকে আসতে হবে তেমন নয়। বরং ভালোবাসাটা যেকোনো জায়গা থেকেই আসতে পারে। করোনার কারণে অনেকের আয়-রোজগার কমে গিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যদি পরিবার থেকে সহযোগিতাটা পায় তবে জীবন সহজ হয়ে যাবে। আমার বাসার খাবার মেন্যু বদলে গেছে। আমার বাসায় এক প্রকার হোটেল সিস্টেম ছিল। ঘুম থেকে উঠে ঠিক করতাম, দুপুরে এই রান্না হবে। আম্মা পরিবার রুটিন করে চলাতেন। কিন্তু আমাদের তা নয়। হুটহাট মনে হয়েছে এটা খাবো— তাই খেতাম।

গত পাঁচমাসে এটা পুরোপুরি বদলে ফেলেছি। বাড়তি কোনো রান্না করি না। বাইরে থেকে খাবার আনি না। এই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আছি। কষ্ট হচ্ছে না কিন্তু। পরিবারের এই ভালোবাসাটা বেঁচে থাকার জন্য জরুরি। বেঁচে থাকার জন্য টাকার প্রয়োজন আছে কিন্তু খুব বেশি নয়।

রাইজিংবিডি: এই সময়ে আপনার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কী হয়েছে?

ন্যানসি: অনেকের উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড আমাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। গত পাঁচ বছর আমি যতটা মানসিক আঘাত পেয়েছি, তার চেয়ে গত পাঁচ মাসে বেশি কষ্ট পেয়েছি।

রাইজিংবিডি: জীবনের কোন বিষয়টি বদলে ফেলতে চান?

ন্যানসি: জীবন থেকে তারকা খ্যাতি বদলে ফেলতে চাই। এমন যদি হতো— আমাকে কেউ চিনছে না!

রাইজিংবিডি: হঠাৎ এমন ভাবনা কেন?

ন্যানসি: মানুষের নানারকম মন্তব্যের কারণে এই ভাবনা ভেতরে জন্ম নিয়েছে। আগে কে কী মন্তব্য করেছে দেখতাম না। এখন ঘরেই থাকি। সুতরাং সবার মন্তব্য পড়ি। আমার আশপাশে বহু মানুষ আছে ডিভোর্সি, পরকীয়া করছে। অনেকে সংসার জীবনে মারামারি করছে। এ নিয়ে কিন্তু বাইরে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বাইরের কেউ তাদের জাজ করছে না। তাদের কাউকে বলছে না— এভাবে হাসলে তোমার দাঁত বের হয়ে যায়। কিংবা আপনি এই পোশাক কেন পরলেন? এই মন্তব্য কেন করলেন?

অথচ আমাদের সবসময় এই অদৃশ্য জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক সময় উত্তর দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু দিতে পারি না। স্ট্রিট ফুড আমার পছন্দ। কিন্তু চাইলেই রাস্তার পাশে বসে খেতে পারি না। মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্ট ফোন। কে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তুলছে কিছু বুঝতে পারি না। কিন্তু পরে দেখা গেল ছবিটি খুব আপত্তিকর! এসব আর ভালো লাগে না।  

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়