RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১১ ১৪২৭ ||  ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কোন গানে শাওন নেচেছেন, প্রশ্ন সরলপুরের

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২২, ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:০৭, ২৪ নভেম্বর ২০২০
কোন গানে শাওন নেচেছেন, প্রশ্ন সরলপুরের

শাওন, তুরিন

সরলপুর ব্যান্ডের ‘যুবতি রাধে’ গানটি নিয়ে সম্প্রতি বাংলা একাডেমির ফোকলোর উপবিভাগের সহ-পরিচালক সাইমন জাকারিয়ার বক্তব্যকে ‘নিরপেক্ষ নয়’ বলে দাবি করেছে সরলপুর ব্যান্ড। দলটির ভোকাল ও বাংলাদেশ আইডলখ্যাত মার্জিয়া আমিন তুরিন ফেসবুক লাইভে এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। 

তুরিন বলেন, ‘সাইমন জাকারিয়া নিরপেক্ষ গবেষক নন। কেননা তিনি তার বক্তব্যে বিভিন্ন গবেষণা থেকে যেসব তথ্যাদি প্রকাশ করেছেন তার সঙ্গে সরলপুর ব্যান্ডের গানের কথার হুবহু মিল নেই। যেসব লোকসাহিত্য সংগ্রহ, উপস্থাপন করেছেন তার কোনোটির সঙ্গে কোনোটির হুবহু মিল নেই। ফলে, আমরা বলতে পারি, দুটি মিথিক্যাল ক্যারেক্টার রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে যুগ যুগ ধরে অসংখ্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরাও তাদের প্রেমোপাখ্যানের কাহিনি অক্ষুণ্ন রেখে আমাদের মতো করে গানটি রচনা করেছি। যা কথায়-সুরে ও যন্ত্রানুষঙ্গে এটি একটি মৌলিক কম্পোজিশন হিসেবে কপিরাইট পাওয়ার যৌক্তিক ও নৈতিক দাবি রাখে। যা অতীতেও সুমী মির্জা নামে এক শিল্পীর অজ্ঞতাবশত অভিযোগের ভিত্তিতে কপিরাইট অফিস যথাযথ বিবেচনা করে দুটি শুনানির মধ্য দিয়ে আমাদের সনদ বহাল রেখেছে।’ এ সময় তুরিন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তারা (কপিরাইট অফিস) কি কিছু না জেনেই রায় দিয়েছে?’

‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি সংগীত প্রকল্পে পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে জনপ্রিয় তারকা চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের কণ্ঠে ‘যুবতি রাধে’ গানটি গাওয়া হয়। গানটি দ্রুত সময়ে শ্রোতাপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপরই সরলপুর ব্যান্ড দাবি করে এটি তাদের মৌলিক গান। এবং তাদের নামে কপিরাইট করা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘যুবতি রাধে’ গানটি ইউটিউব ও আইপিডিসির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেয়। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সাইমন জাকারিয়া সরলপুর ব্যান্ডের গানটি বিভিন্ন লোকসাহ্যিতের অংশ বলে দাবি করেন। ফেসবুক লাইভে এসে মূলত তারই জবাব দিলেন তুরিন।  

সাইমন জাকারিয়ার ভিডিওটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এর নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুরিন বলেন, ‘সাইমন জাকারিয়া তার দাবিতে একটি গান প্রমাণস্বরূপ উপস্থাপন করে বলেছেন—যুগ যুগ ধরে আমাদের গানটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন কীর্তনে গাওয়া হচ্ছে। অথচ ভিডিওটি ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ইউটিউবে প্রকাশ করা। সেখানে আমাদের গানটিই হুবহু গেয়েছে নবনিত্য সম্প্রদায় বলে একটি গোষ্ঠি। আমরা মনে করি, কোনো দায়িত্বশীল গবেষকের উচিত সচেতনভাবে এ ধরনের অমার্জনীয় অপরাধ না করা। কিংবা ভুল হলেও তা পরবর্তীতে সংশোধন করে নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করা। কিন্তু তিনি তা করেননি।’

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে সরলপুর ব্যান্ড জানায়, আইনি প্রক্রিয়ায় তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে এখন পর্যন্ত তারা বরাবরের মতো কপিরাইট অফিসের প্রতিই আস্থা রাখছে। অন্যথায় আদালতে যেতে সমস্ত আইনি ভিত্তি তাদের রয়েছে এবং তারা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা গানটিকে কথায়-সুরে একটি মৌলিক কম্পোজিশন হিসেবে দাবি করে গানটির মেধাস্বত্ব রক্ষায় দেশের সংগীতবোদ্ধা, ব্যান্ড সংগঠন বামবাসহ গীতিকার ও সুরকার সংগঠনগুলোর নিরপেক্ষ সহযোগিতা কামনা করেছে। শুধু তাই নয়, ২০১০ সালে গানটি সরলপুর প্রকাশের পূর্বে অন্য কোথাও তাদের গানটির অস্তিত্ব খুঁজে পেলে তাও সকলের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এদিকে এক সংবাদমাধ্যমে ‘যুবতি রাধে’ প্রসঙ্গে মেহের আফরোজ শাওন জানান, ছোটবেলায় এই গানের সঙ্গে নেচেছেন তিনি। বিষয়টি উল্লেখ করে তুরিন বলেন, ‘কোন গানের সঙ্গে নেচেছেন তিনি? গসিপ না ছড়িয়ে সবার সামনে হাজির করুন। কোথাও কি তার কোনো অস্তিত্ব আছে?’

জানা যায়, সম্প্রতি আইপিডিসি কর্তৃক কপিরাইট অফিস বরাবর সরলপুরের গানটি নিয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তার বিপরীতে সরলপুর ব্যান্ড তাদের যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিতে যাচ্ছে তারা।

ঢাকা/শান্ত/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়