ঢাকা     রোববার   ০৭ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪৩৩ || ২১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘জীবনে অবসাদ এসেছে, কাউন্সেলিং করিয়েছি, এটা লজ্জার কিছু না’

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৭:৪৩, ৭ জুন ২০২৬
‘জীবনে অবসাদ এসেছে, কাউন্সেলিং করিয়েছি, এটা লজ্জার কিছু না’

যীশু সেনগুপ্ত

ভারতীয় বাংলা সিনেমার দাপুটে অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমায়ও নিয়মিত অভিনয় করে নজর কাড়ছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না তার। এরপরও নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে চেষ্টার ত্রুটি নেই এই তারকার। মানসিক অবসাদের কারণে থেরাপিও নিয়েছেন। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন যীশু।

মানসিক অবসাদ কীভাবে সামাল দেন? জবাবে যীশু সেনগুপ্ত বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অ্যাংজাইটি বা ডিপ্রেশন মানুষের জীবনে আসতেই পারে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর এই বিষয়ে কথা বলাটা ভীষণ জরুরি। আমি খুব সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালোবাসি। জীবনে অবসাদ এসেছে, আমি নিজেও কাউন্সেলিং করিয়েছি, মনোবিদের কাছে গিয়েছি। এটা নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। আমরা যে ধরনের জীবনযাত্রার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে নিজেকে ঠিক রাখাটা সবচেয়ে ডিফিকাল্ট কাজ। তার উপর এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব। আজকাল কোথাও যেন পার্সোনাল স্পেসের বাউন্ডারি গুলিয়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে চারপাশের পরিস্থিতি বড্ড বেশি বদলে গিয়েছে।”

আরো পড়ুন:

এখনকার যীশু সেনগুপ্ত কী অনেক বেশি সাবধানী, অনেক বেশি মেপে কথা বলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তা নয়। আমি খুব হিসাব করে কথা বলি না। আমার যেটা মনে হয়, আমি সরাসরি বলে দিই। আমি চাইলে তো এই মনোবিদের কাছে যাওয়ার কথাটা লুকিয়ে রাখতে পারতাম। আমি তো একজন স্টার, একজন অভিনেতা—আমার এই দুর্বলতা প্রকাশ না করলেও চলত। কিন্তু আমি মনে করি, দিন শেষে আমিও একজন মানুষ।”
 
সমাজের অধিকাংশ মানুষ নিজেকে ভালো করে চিনেন না বলে মত যীশুর। তার ভাষায়—“আমাদের এই সমাজে কেউ পুরোপুরি সাদা বা কালো নয়, সবাই গ্রে। আমরা প্রত্যেকেই দিন শেষে আয়নার সামনে দাঁড়াই, ক্রিম লাগানোর সময়ে হলেও অন্তত একবার নিজেকে দেখি। তখন তো নিজের ভুলত্রুটিগুলো বা ভালো কাজগুলো নিজের মনের ভেতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসল সমস্যাটা হলো আমরা নিজেদের ভালো করে চিনিই না। আমরা সবাই কোনো না কোনো অভিনয় করে যাচ্ছি। নিজেকে ভালো না বাসলে, নিজে আনন্দে না থাকলে, প্রিয় মানুষদের ভালো রাখবেন কীভাবে? এটা কোনো স্বার্থপরতা নয়, এটা বেঁচে থাকার রসদ।”

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রলিং আপনাকে কতটা ভাবায়? এ প্রশ্নের উত্তরে যীশু সেনগুপ্ত বলেন, “খারাপ লাগে। তবে হ্যাঁ, খারাপ লাগার সময়সীমাটা এখন অনেক কমে গিয়েছে। আগে হয়তো কোনো ট্রলে দুই-তিন দিন মন খারাপ থাকত, এখন সেটা কমে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ডে এসে ঠেকেছে। মাঝে-মাঝে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তারপর ভাবি, কী লাভ? 

একটি উদাহরণ টেনে যীশু সেনগুপ্ত বলেন, “কিছুদিন আগে, আমি নাকি আবার বাবা হতে চলেছি—এমন একটা হেডলাইন দেখেছিলাম। দু’বছর কেটে গেল, কই কিছুই তো হলো না! আবার এই ফেক নিউজের চক্করে পড়ে কোনো কোনো মানুষ মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তার দায়িত্ব কে নেবে? মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ার কোথাও একটা লক্ষ্মণরেখা থাকা দরকার।”

যীশু সেনগুপ্ত অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাউন’। ক্রাইম-থ্রিলার ঘরানার এ সিনেমা নির্মাণ করেছেন অভিনয় দেও। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন কারিশমা কাপুর, হেলেন প্রমুখ। গত ৫ জুন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভে মুক্তি পেয়েছে এটি।

ঢাকা/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়