ঢাকা     শুক্রবার   ১২ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩ || ২৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলা গানে বিশ্বকাপের রঙিন সুর

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৫, ১২ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:০৭, ১২ জুন ২০২৬
বাংলা গানে বিশ্বকাপের রঙিন সুর

ছবির কোলাজ

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়, এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগের উৎসব। চার বছর পরপর বিশ্বের সেরা দলগুলো যখন একই মঞ্চে লড়াইয়ে নামে, তখন সেই উত্তেজনা কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতেও। বাংলাদেশের মতো ফুটবলপ্রেমী দেশে বিশ্বকাপ এলেই ছাদে উড়তে থাকে বিভিন্ন দেশের পতাকা, পাড়ায় পাড়ায় জমে ওঠে তর্ক-বিতর্ক, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে। সেই আবেগেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ বাংলা গান।

আরো পড়ুন:

ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে গত কয়েক বছরে বাংলা ভাষায় তৈরি হয়েছে বেশ কিছু গান। এসব গানে কখনো উঠে এসেছে প্রিয় দলের জয়ের স্বপ্ন, কখনো ফুটবলের রোমাঞ্চ, আবার কখনো মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা। তাই বিশ্বকাপের উন্মাদনা যেমন মাঠে দেখা যায়, তেমনই তার প্রতিফলন পাওয়া যায় বাংলা গানের সুর ও কথাতেও। এমন কিছু গান নিয়ে এই প্রতিবেদন—

বিশ্বকাপের গানে মাহবুবুল খালিদের ধারাবাহিক উপস্থিতি
বাংলা ভাষায় ফুটবল বিশ্বকাপভিত্তিক গানের প্রসঙ্গ উঠলে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেয় গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদের নাম। তার ‘খালিদ সংগীত’ প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে একাধিক গান প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে ‘নান নান নান না’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনা। এ গান শুধু ফুটবল উন্মাদনায় সীমাবদ্ধ নেই; এতে বর্ণবাদ, জাতিগত বিভাজন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবিক বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে। 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ‘ও-লে-লে-ও-লে-লে বিশ্বকাপ’। বিশ্বকাপের আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান ছিল গানটির মূল উপজীব্য। একই বছর প্রকাশিত হয় ‘এসো ফুটবল খেলি’ গানটি। মুক্তির পর এ গানও তরুণদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। তবে তার বিশ্বকাপভিত্তিক গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘বিশ্বকাপে বিশ্ব মাতে’। ধনী-গরিব, সাদা-কালো কিংবা ভৌগোলিক বিভেদ ভুলে ফুটবলের মাধ্যমে এক হওয়ার আহ্বান ছিল গানটির প্রধান বার্তা।

তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে নতুন বিশ্বকাপ অ্যান্থেম
ছাব্বিশের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নতুন কয়েকটি গান মুক্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ‘ফুটবল ফুটবল’ গানটির সুর করেছেন আরমান খান, কণ্ঠ দিয়েছেন বিজয় মামুন। বিশ্বকাপের উত্তেজনা, সমর্থকদের আবেগ ও জয়ের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে গানটি। একই সময় বেঙ্গল আই মিউজিক থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘চলো এগিয়ে যাই’ ও ‘জাগো জাগো-রে’। গান দুটির কথা ও সুর করেছেন এ কে এম গোলাম সরওয়ার। মূলত, এগুলোকে ফুটবল অ্যান্থেম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে খেলাধুলার ইতিবাচক শক্তি ও তরুণদের উদ্দীপনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, ‘উল্লাস ছড়িয়ে দাও’ শিরোনামের একটি স্পোর্টস ইডিএম গানও ছাব্বিশের বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ড ও স্টেডিয়ামধর্মী আবহের কারণে গানটি তরুণ শ্রোতাদের আকর্ষণ করছে।

কাতার বিশ্বকাপের ভাইরাল গান
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল ‘জমবে রে জমবে এবার ফুটবল বিশ্বকাপ’। গগন সাকিব ও সুমাইয়ার কণ্ঠে গাওয়া গানটি দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশ্বকাপের উৎসবমুখর পরিবেশ ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছিল গানটি।

কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের গান
ফুটবলের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভালোবাসাও নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে কলকাতা শহর দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে কলকাতা থেকে মুক্তি পাওয়া ‘হোক খেলা’ গানটি সেই আবেগই তুলে ধরেছে। থিম স্টুডিওর ব্যানারে প্রকাশিত গানটিতে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ ফুটে উঠেছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সময় প্রকাশিত হয়েছিল ‘গো ফর গোল’। এটি একক গান নয়, বরং কলকাতার বিভিন্ন শিল্পীদের অংশগ্রহণে তৈরি বিশেষ একটি ফুটবল অডিও জুকবক্স প্রকল্প, যা সে সময় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচনায় ছিল।

ঢাকা/জান্নাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়