RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৯ ১৪২৭ ||  ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবসে তাদের কথা  

মিফতাউল জান্নাতি সিনথিয়া  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৭, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ০০:০৬, ২০ নভেম্বর ২০২০
বিশ্ব নারী উদ্যোক্তা দিবসে তাদের কথা  

১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস। ২০১৪ সালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘে প্রথম নারী উদ্যোক্তা দিবস পালিত হয়। নিউইয়র্কে পালিত অনুষ্ঠানটি ১১৪টি দেশে প্রচারিত হয়েছিল। 

নারী উদ্যোক্তারা তাদের নিজ নিজ দেশের অর্থনীতিতে অবিচ্ছেদ্য অবদান রাখা সত্ত্বেও ব্যবসার জগতে প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছেন। বিশ্বের নারী উদ্যোক্তাদের সম্মান জানাতে ও নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে মূলত দিবসটি পালন শুরু হয়।

সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে নারী। ইন্টারনেটের বৈপ্লবিক যুগে ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নারীরাও হয়ে ওঠেছেন উদ্যোক্তা। 

নারীরা গৃহকর্ম সামলিয়ে বাড়তি পরিশ্রম করে উপার্জন করছেন অর্থ। নিজ দেশীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য (তাঁত পণ্য, শাড়ি, বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, বেতপণ্য, ঘরে বানানো খাবার) ছাড়াও অনলাইনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। এমন কিছু নারী উদ্যোক্তার কথা শুনবো আজ। পুরুষ উদ্যোক্তাও রয়েছেন, যারা নারীর অগ্রযাত্রায় সহযোগী হয়েছেন ও হতে অন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

নাইমা রিকা

নাইমা রিকা। ‘লাইট অ্যান্ড ব্রাইট’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আমি অনলাইনে ব্যবসা করছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের হ্যান্ডক্রাফটেড ড্রেস নিয়ে। এখানে আমার ১০ জন কর্মী আছেন। করোনার সময় যখন সব পুরুষের কাজ বন্ধ ছিল, তখন আমার কর্মীদের সংসারটা আমার মজুরির উপর নির্ভরশীল ছিল। যদিও অংকের হিসেবে সেটা খুব সামান্য ছিল। তবে কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই অবস্থায় সেটাই ছিল তাদের একমাত্র অবলম্বন। 

আসলে আমার নিজের এলাকার ঐতিহ্যকে উই’র মাধ্যমে সারাদেশে পরিচিত করতে পেরে আমি খুব খুশি। স্বপ্ন দেখি, একদিন আমার উদ্যোগ ‘Lite & Bright’ দেশ-বিদেশে চাপাইনবাবগঞ্জের ব্র্যান্ড হিসেবে চিনবে।

সামিরা

বগুড়ার মেয়ে সামিরা। ‘ছায়াবৃক্ষ’র প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পর স্বাধীভাবে কাজ করতে নিজের পছন্দের কাজে উদ্যোক্তা হয়েছি । হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়ে মায়ের হাতে বানানো আচার অনলাইনে বিক্রি করছি। ব্যবসার শুরুটা উই থেকেই ছিল আমার। চাকরি ছেড়ে আচার বিক্রি করেই আজ স্বাবলম্বী আমি।

খাদিজা আক্তার

সিলেটের মেয়ে খাদিজা আক্তার। ‘মাহিরা নান্দনিক শিল্প’-এর সত্ত্বাধিকারী। তিনি বলেন, আমি অনলাইনে ব্যবসা করছি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতের পণ্য নিয়ে। ৫ বছরের কলেজে শিক্ষকতার পেশা ছাড়তে হয় বাচ্চার জন্য। ডিপ্রেশন থেকে নিজেকে ফেরাতে বেছে নিয়েছি উদ্যোক্তা জীবন। স্বামীর সাপোর্টে আর সাহসে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমার।

শারমিন জিয়া

টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প নিয়ে কাজ করছেন শারমিন জিয়া। অজপাড়া গ্রাম থেকে ২ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে অনলাইন ব্যবসা ‘জিয়া’স কালেকশন’ শুরু করেন তিনি। নিজের বাড়িতে তৈরি করা তাঁতের শাড়ি দেশের ৬৪ জেলাতে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বর্তমানে ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসায় আশার আলো দেখছেন শারমিন।  

রাজিব আহমেদ

ই-ক্যাবের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাজিব আহমেদ বলেন, উইতে সবচেয়ে ভাল যা হয়েছে, তা হলো হাজার হাজার দেশি পণ্যের নারী উদ্যোক্তারা অভিন্ন প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। ফলে তারা আর নিজেরা একা নন ও দেশের যেখানেই থাকেন না কেন লাখ নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে একাত্ববোধ করছেন এই গ্রুপের মাধ্যমে। এভাবে ই-কমার্সে দেশি পণ্যের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি নারী উদ্যোক্তারা দিনে দিনে আরও শক্তিশালি হচ্ছেন। এর সুফল অনেক বছর ধরে আমরা পাবো।

ইমরান হোসেন

ইমরান হোসেন, দায়িত্বরত আছেন উই’র ওয়ার্কিং কমিটির ডিরেক্টর হিসেবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে বেশি সংখ্যক নারীরা কোনো না কোনো পেশায় জড়িত। ফলে তাদের দেশের মোট অর্থনীতি অনেক বড় ও শক্তশালী। এদিকে বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেক হয়েও নারীরা খুব কমই কর্মক্ষেত্রে আসেন। যেহেতু এখন ই-কমার্সের সময়, তাই ঘর থেকেই কোনো উদ্যোগ নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অংশ নেওয়ার সুবর্ন সুযোগ।  

দেশের পুরুষদের যার যার জায়গা থেকে নারীদের ভালো উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা উচিত। শুধু উই নয়, বরং আমাদের নিজেদের ঘর থেকেই আমাদের নারীদের পাশে থাকার মানসিকতা তৈরি করতে পারি।

দেলোয়ার হোসেন ও নাজির উদ্দিন

উই গ্রুপের মডারেটর দেলোয়ার হোসেন ও নাজির উদ্দিন নারীদের ব্যবসাকে সমর্থন করে বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উই (উইমেন অ্যান্ড ই- কমার্স) একটি নারী উদ্যোক্তাবান্ধব প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিভা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উই গ্রুপ ইতোমধ্যে যারপর নেই সুনাম অর্জন করেছে। 

ঢাকা/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়