ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১১ ১৪৩১

‘আমার ছোট্ট জারিফের পাশে দাঁড়ান’  

জ্যেষ্ঠ প্রতি‌বেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩০, ১৬ মে ২০২৪  
‘আমার ছোট্ট জারিফের পাশে দাঁড়ান’  

ছোট্ট শিশু জারিফ। বয়স সবে মাত্র পাঁচ। বন্ধুরা যখন দৌড়াদৌড়ি করছে, খেলাধুলা করছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে সে তখন ছোট্ট ঘরের বারান্দায় শুয়ে-বসে দিন পার করছে। সঠিক সময়ের আগে (সাত মাসে) জন্ম হয় জারিফের। জান্নাত এবং জারিফ যমজ ভাইবোন। জন্মের পর দুজনকেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। আইসিইউ থেকে ৭ দিন পর জান্নাতকে বের করা গেলেও জারিফকে নিয়ে চিকিৎসকদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। সেই থেকেই জারিফের শারীরিক অবস্থা আর ভালো হয়নি।  

প্রথমে জারিফের চোখ আর কানে সমস্যা ধরা পড়ে। শুরু হয় চিকিৎসা। মানুষের আর্থিক সাহায্য ও জমি বিক্রি করে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করানো হয়। এখন সে শুনতে পায় এবং প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারে। তবে টাকার অভাবে জারিফের চোখের চিকিৎসা এখনও শুরু করা যায়নি। জারিফ জন্মের পর উঠে বসতে পারতো না। এখন বসতে পারে এবং কোনো কিছুর সাহায্যে দাঁড়াতেও পারে।  

সাভারের সিআরপিতে তার নিয়মিত থেরাপি চলছে। কথা বলার জন্য স্পীচ থেরাপি, হাঁটার জন্য ফিজিওথেরাপি এমনকি ছোট্ট জারিফকে অকুপেশনাল থেরাপিও দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা করলে সে সুস্থ হবে। কিন্তু এ জন্য টাকার দরকার। তাকে এখন দুবেলা থেরাপি দিতে হয়। প্রতিটি থেরাপি ৩৫০ টাকা। টাকার অভাবে জারিফের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে।  

জারিফের মা জেসমিন বলেন, টাকার অভাবে শুধু ফিজিওথেরাপি দিচ্ছি। ঢাকা আর ময়মনসিংহর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসা করে এখন আর পারছি না। আমাদের কষ্টের কথা বাদই দিলাম। আমার সন্তানের কষ্ট এখন আর সহ্য হয় না। 

জারিফের বাবা মনির হোসেন বলেন, চোখের একটা অপারেশন করাতে হবে কিন্তু টাকার অভাবে করতে পারিনি, এমনকি থেরাপিও দিতে পারছি না। সরকারি খাস জমিতে থাকি। একটা রিকশা ছিল বিক্রি করে দিয়েছি। এখন থাকার একটা ছোট ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসা করাচ্ছি। যা কিছু ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। অসহায় বাবা হিসেবে সবার কাছে আমি সাহায্য চাচ্ছি। আমার ছোট্ট জারিফের পাশে দাঁড়ান।

মনির হোসেনের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বাগচালা গ্রামে। তার ফোন নম্বর 01749181032

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়