ঢাকা     বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মধ্যযুগের গুপ্তচরদের সাজ-পোশাকে লুকিয়ে থাকতো সংকেত

সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:৪৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
মধ্যযুগের গুপ্তচরদের সাজ-পোশাকে লুকিয়ে থাকতো সংকেত

ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি

মধ্যযুগে গুপ্তচরদের পক্ষে চিঠি বহন করা ছিলো ঝুঁকির কাজ। তাই গুপ্তচররা আশ্রয় নিয়েছিল আরও নিঃশব্দ, আরও সূক্ষ্ম এক ভাষার ওপর। যা—পোশাক ও গহনার সংকেতের ভাষা। এখানে কালি বা কাগজের প্রয়োজন ছিল না; চোখই ছিল পাঠক, আর ফ্যাশনই ছিল বার্তা।

ইউরোপের রাজদরবারে নারীরা পরতেন ভারী ও আড়ম্বরপূর্ণ গহনা—হার, আংটি, ব্রোচ। কিন্তু সব অলংকার ছিল না কেবল সৌন্দর্যের জন্য। কোন আঙুলে আংটি, আংটির সংখ্যা কত, হারটি কয় স্তরের—সবই ছিল পূর্বনির্ধারিত সংকেতের অংশ।

আরো পড়ুন:

ডান হাতে আংটি মানে ‘সব নিরাপদ’, আর বাম হাতে মানে ‘ঝুঁকি আছে’। এই সংকেতের ভাষা বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল ফরাসি রাজদরবারে। রানির দাসীরা শুধু পোশাক আর গহনার বিন্যাস দেখেই বুঝে নিত—আজ কি কোনো গোপন বার্তা চালান হবে, নাকি নীরব থাকাই ভালো হবে।

চুলের বিন্যাসও ছিল এক ধরনের সাংকেতিক ভাষা। খোঁপা যদি উপরে বাঁধা থাকে, যার মানে সংবাদ প্রস্তুত। খোঁপা নিচে নামানো থাকলে বুঝতে হতো—পরিকল্পনা বাতিল। ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত নারীদের মধ্যে এই কৌশল ছিল বহুল ব্যবহৃত। 

গুপ্তচরদের পোশাকের রঙও কথা বলত। কালো মানে শুধু শোক নয়—অনেক সময় তার অর্থ ছিল, ‘আক্রমণ আসছে’। নীল মানে ‘অপেক্ষা করো, এখনই নয়’। সাধারণ মানুষের চোখে এগুলো ছিল নিছক ফ্যাশন ট্রেন্ড, কিন্তু গুপ্তচরদের কাছে ছিল যুদ্ধের নির্দেশিকা।

এই পদ্ধতির সবচেয়ে নিরাপদ ছিলো। ফলে ইতিহাসের আড়ালে, রেশমি পোশাক আর ঝলমলে গহনার ভেতর লুকিয়ে চলত নিঃশব্দ যুদ্ধ—যেখানে অস্ত্র ছিল রুচি, আর ভাষা ছিল নীরবতা।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়