টাইটানিক দেখতে গিয়ে পাকিস্তানিসহ ৫ পর্যটককে নিয়ে সাবমেরিন নিখোঁজ
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখাতে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুব দেওয়া পর্যটকবাহী একটি ক্ষুদ্রাকায় সাবমেরিন নিখোঁজ হয়ে গেছে। দুই পাকিস্তানিসহ পাঁচ পর্যটকবাহী যানটি খুঁজতে ইতিমধ্যে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, টাইটান নামের ওই সাবমেরিনটি রোববার ডুব দেওয়ার পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় সাবমারসিবলটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাবমেরিনটির ট্যুর অপারেটর ওশানগেট এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, টাইটানে থাকা পাঁচ আরোহীকে উদ্ধারের সম্ভব্য সব পথই তারা খতিয়ে দেখছে। সাবমেরিনটির ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সাগর তলদেশে থাকার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এটি এখনও আটলান্টিকের তলদেশেই রয়েছে নাকি ভেসে উঠেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নৌবাহিনী এবং গভীর সমুদ্রে কাজ করা বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে।
কোস্ট গার্ডের একজন কমান্ডার সোমবার বলেছিলেন, ‘এটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানো একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা সাবমেরিনটি সনাক্ত করতে এবং জাহাজে থাকা লোকদের উদ্ধার নিশ্চিত করতে আমরা সব উপকরণ ব্যবহার করছি।’
পাকিস্তানি একটি পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাবমেরিনটিতে পর্যটক হিসেবে বাবা ও ছেলে ছিল।
১৯১২ সালে বিশাল আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল ওই সময়কার সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিক। ডুবে যাওয়া এই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষটি রয়েছে আটলান্টিকের ৩ হাজার ৮০০ মিটার নিচে। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখানোর জন্য ওশানগেট এক্সপেডিশনস সাবমেরিন ট্যুরের ব্যবস্থা করেছিল। এই সাবমেরিনটির ওজন ১০ হাজার ৪৩২ কেজি। এর দৈর্ঘ্য ২২ ফুট এবং এতে পাঁচ জন পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন। সাগরের গভীরে থাকা ধ্বংসাবশেষে ডাইভসহ আট দিনের ভ্রমণের টিকিটের দাম দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার।
ঢাকা/শাহেদ