ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলো কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ২০ জুন ২০২৪   আপডেট: ১৪:৫২, ২০ জুন ২০২৪
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলো কানাডা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে কানাডা। বুধবার (১৯ জুন) কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক এ ঘোষণা দিয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ হলো, ইরান সরকারের হাজারো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের মধ্যে আইআরজিসির কর্মকর্তাও আছেন। 

এ ছাড়া কানাডায় থাকা আইআরজিসির সম্পদ স্থগিত করা হবে। কানাডার কোনো নাগরিক বা কোম্পানি সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না।

কানাডা সরকারের বলছে, হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক রয়েছে। গোষ্ঠীটি ইরানেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত।

কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী তার সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাতিয়ার বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অটোয়া এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। বার্তাটি হলো, আইআরজিসির সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কানাডা তার হাতে থাকা সব উপায় ব্যবহার করবে।’

বিবিসি জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে কানাডার বিরোধী আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি ইরানপ্রবাসীদের দাবির মুখে এই পদক্ষেপ নিল অটোয়া।

ইরানে আইআরজিসিকে একটি অভিজাত বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে এই বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

আইআরজিসির প্রায় দুই লাখ সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। আইআরজিসির নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী রয়েছে। তারা ইরানের কৌশলগত অস্ত্রের তদারক করে।

কুদস ফোর্স নামে আইআরজিসির একটি শাখা আছে। এই শাখার মাধ্যমে দেশের বাইরে অভিযানসহ তৎপরতা চালায় ইরান। কুদস ফোর্সকে আগেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে কানাডা। তবে গতকাল তারা পুরো আইআরজিসিকেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকাভুক্ত করলো।

আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করায় কানাডায় অবস্থান করা ইরান সরকারের অনেক সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। এমনকি তাদের কানাডা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

অটোয়ার এই সিদ্ধান্তের কারণে ইরানে অবস্থান করা কানাডীয় নাগরিকেরা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি। তার আশঙ্কা, ইরানে কানাডার নাগরিকদের নির্বিচারে আটক করা হতে পারে।

/ফিরোজ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়