ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

৩৮ দিন পর ভারত ছাড়ল ব্রিটিশ ‘এফ-৩৫বি’ যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ২২ জুলাই ২০২৫   আপডেট: ১৯:১৬, ২২ জুলাই ২০২৫
৩৮ দিন পর ভারত ছাড়ল ব্রিটিশ ‘এফ-৩৫বি’ যুদ্ধবিমান

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কেরালার তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ ও টানা ৩৮ দিন অবস্থান করার পর যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর একটি ‘এফ-৩৫বি’ যুদ্ধবিমান। 

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দর থেকে পঞ্চম প্রজন্মের ওই যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করে। ভারতে ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

আরো পড়ুন:

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ১৪ জুন কেরালা উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ রণতরী ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’ থেকে ওড়ে ‘এফ-৩৫বি’। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় তিরুবনন্তপুরমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সেটি। শুধুমাত্র জ্বালানি কম থাকার কারণেই যে যুদ্ধবিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে, এমন নয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণেও সাহায্য চান ওই যুদ্ধবিমানের পাইলট। এর পরই বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানটিকে জরুরি অবতরণের অনুমতি দেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অবতরণের পর বিমানটির হাইড্রোলিক যন্ত্রাংশে ত্রুটি ধরা পড়ে।

ভারতের মাটিতে বিমানটির দীর্ঘ উপস্থিতি কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল ও অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল, এত আধুনিক বিমান কিভাবে এতদিন ধরে একটি ভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারে। এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসের বহরের সদস্য বিমানটি ফিরে যেতে না পারার পর রয়াল নেভির প্রকৌশলীরা এটি মেরামত করার জন্য পরিদর্শন করেন।

তবে তারা এটি মেরামত করতে পারেননি। দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এফ-৩৫বি বিমানটি মূল্যায়ন ও মেরামতের জন্য ১৪ জন প্রকৌশলীর একটি দল তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে পাঠিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দলটি চলাচল ও মেরামত প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ের ভিডিওগুলোতে বিমানটিকে একটি হ্যাঙ্গারে টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

জল্পনা ছিল, যদি তারা বিমানটি মেরামত করতে ব্যর্থ হন, তাহলে এটি ভেঙে ফেলতে হবে ও সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানের মতো বড় কার্গো বিমানে করে এটি নিয়ে যেতে হবে।

এই ঘটনায় ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম ও রসিকতা শুরু হয়েছিল। কেউ কেউ মজা করে লিখেন, এই বিমানটিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত; কেউ বলেছে, বিমানবন্দর ভাড়া নেওয়া হোক। কেরালা পর্যটন বিভাগও হালকা ব্যঙ্গ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, “কেরালা, এমন এক গন্তব্য- যেখানে কেউই ফিরে যেতে চায় না।” একটি এআই-জেনারেটেড ছবিতে দেখা যায়, এফ-৩৫বি একটি রানওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে, পেছনে নারিকেল গাছের সারি।

তবে গতকাল সোমবার বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, বিমানটি উড্ডয়নের যোগ্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুদ্ধবিমানটি লকহিড মার্টিন নির্মিত ছোট রানওয়ে থেকে উড়তে ও উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে পারে, যাকে স্টোভল প্রযুক্তি বলে। এছাড়া যুদ্ধবিমানটির স্টেলথ ক্ষমতা রয়েছে, অর্থাৎ রাডারে ধরা পড়ে না সহজে। 

যুদ্ধবিমানটির মূল ভার্সানটির নাম ‘এফ-৩৫ লাইটনিং টু’। এর মোট তিন ধরনের মডেল রয়েছে। ‘এফ-৩৫বি’ মূলত বিমানবাহী রণতরীর জন্য তৈরি করা হয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানের আনুমানিক দাম ১১ কোটি ডলার। এই যুদ্ধবিমান ন্যাটো-ভুক্ত অনেক দেশ, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস ব্যবহার করে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়