বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে দায়ী করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিঞ্জানি
ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
বিক্ষোভকারী ইরানিদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ‘দখল’ করার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পরপরই আলী লারিঞ্জানি এক্স-এ একটি পোস্ট করেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার লারিঞ্জানি লিখেছেন, “আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি: ১- ট্রাম্প, ২- নেতানিয়াহু।”
ট্রাম্প ইরানিদের দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” তার এই মন্তব্যের পরই লারিঞ্জানির এমন প্রতিক্রিয়া এল।
ইরান সরকারের দাবি, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোন অবস্থান নিলে শত শত বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়। ভয়াবহ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে সৃষ্ট এই বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সোমবার জানিয়েছিলেন, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো প্রথমে ‘শান্তিপূর্ণ ও বৈধ’ ছিল, কিন্তু দ্রুতই তা পথ হারায় এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় দেশের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে’ রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে ‘শান্ত ও সংযমের’ সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছিল, কিন্তু পরে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে এর গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়।”
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মিশিগানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সাহায্য আসছে’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটি আপনাদেরই বুঝে নিতে হবে। আমি দুঃখিত।”
পরবর্তীতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তবে সেই ব্যবস্থাগুলো কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, “ফাঁসি দেওয়ার কথা আমি এখনো শুনিনি। যদি তারা তাদের ফাঁসি দেয়, তবে আপনারা এমন কিছু দেখবেন যা আগে দেখেননি...তারা এমন কিছু করলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব।”
ইরান ইস্যুতে তার নীতিগত লক্ষ্য কী- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “মূল লক্ষ্য হলো জয়ী হওয়া। আমি জয় পছন্দ করি।”
ট্রাম্প এসময় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে একটি দ্রুত কৌশলগত বিজয়ের ইঙ্গিত দেন, যা অনেকটা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়া বা ২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মতো ঘটনার সমতুল্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরানে যা ঘটছে আমরা তা দেখতে চাই না। তারা যদি বিক্ষোভ করতে চায়, তবে সেটা এক বিষয়; কিন্তু তারা যখন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করবে এবং এখন আপনারা বলছেন ফাঁসি দেওয়ার কথা- তবে দেখা যাক তাদের জন্য এর ফল কী হয়। তাদের জন্য ফল মোটেও ভালো হবে না।”
এদিকে, মঙ্গলবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গত সপ্তাহান্তে ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহ-এর বড় ছেলে রেজা পাহলভির সঙ্গে দেখা করেছেন। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে পাহলভির সঙ্গে এটিই প্রথম কোনো মার্কিন যোগাযোগ।
ঢাকা/ফিরোজ