ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারত-ইইউ ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যা রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:২২, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত-ইইউ ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যা রয়েছে

নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন

ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উভয় পক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থির সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউ-এর রপ্তানি দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হবে। এর ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো (৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় হবে।

আরো পড়ুন:

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী সাত বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের ৯৯.৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে দেবে। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক পণ্য, চামড়া, টেক্সটাইল, রাসায়নিক, রাবার, বেস মেটাল এবং রত্ন ও অলঙ্কারের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তি সম্পর্কে বলেন, “গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বিশাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের কোটি কোটি মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ নিয়ে আসবে।”

এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের তাদের বিশাল ও কঠোরভাবে সুরক্ষিত বাজার ইউরোপের জন্য উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের সুবিধা দিতে জন্য ভারত গাড়ি আমদানির ওপর থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আগামী পাঁচ বছরে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসবে।

এছাড়া ভারত তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াইনের ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করবে, যা পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। স্পিরিটের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হবে।

ভারত ইইউ থেকে আসা যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক এবং লোহা ও ইস্পাতের ওপরও শুল্ক কমাবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “ইউরোপ ও ভারত আজ ইতিহাস সৃষ্টি করছে। এটি কেবল শুরু।”

২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর অনুযায়ী, ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর পাঁচ থেকে ছয় মাসের আইনি যাচাই-বাছাইয়ের পর সম্পন্ন হবে। ধারণা করা হচ্ছে এক বছরের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন মারকোসুর (দক্ষিণ আমেরিকান ব্লক), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও বিভিন্ন চুক্তি সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে ভারতও যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড এবং ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

বিশ্বজুড়ে এই বাণিজ্য চুক্তির হিড়িক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ঝুঁকি কমানোর একটি চেষ্টা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দীর্ঘদিনের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

গত বছর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যায়। সম্প্রতি ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয় যখন ট্রাম্প ভারতের পণ্যসহ বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন।

সাবেক ভারতীয় বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব রয়টার্সকে জানান, এই চুক্তির ফলে ভারতের শ্রমঘন খাতগুলোতে রপ্তানি বাড়বে, যা মার্কিন শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি ভারতের উচ্চ শুল্ক থেকে মুক্তি পাওয়ায় ইউরোপীয় পণ্যগুলো ভারতের বাজারে তাৎক্ষণিক দামের সুবিধা পাবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়