স্বপদে নাজমুল, বিসিবি বলছে, ‘লিখিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে’
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল যতটুকু করতে পারতেন ততটুকু করেছিলেন। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তার পরিচালক পদের পদত্যাগ চেয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একপ্রকার বাধ্য হয়ে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে নাজমুলকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তাই পারেননি। সবকিছুই এখন নিয়ন্ত্রণে। বিপিএলের খেলাও শেষ। তাইতো নিরুত্তাপভাবে আমিনুল এম নাজমুলকে পুরোনো জায়গাতে ফিরিয়েও এনেছেন। বোর্ডের একাধিক সূত্র রাইজিংবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সবশেষ বোর্ড সভাতে আমিনুল নাজমুলকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদে পুনর্বহাল করেন।
কিন্তু বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি? এজন্য মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানালেন, বোর্ড যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, ‘‘এ ব্যাপারে লিখিত কিছু আসেনি। লিখিত কিছু না আসা পর্যন্ত আপনারা অফিসিয়ালি কনসিডার করবেন না। যখন লিখিত আসবে….লিখিত না আসা পর্যন্ত কোনো কিছু আসলে চূড়ান্ত নয়। লিখিত আসলে জানতেই পারবেন।’’
তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলা নাজমুল ক্রিকেটারদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন। যেখানে শুধু ক্রিকেটারদের তিনি ছোটই করেননি, বরং তাদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পারফরম্যান্স নিয়ে করেছিলেন কূটক্তি। ক্রিকেটারদের নিয়ে তার করা অস্বাভাবিক মন্তব্যর জেরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন ছিল সরগরম।
পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তার পদত্যাগের দাবি করে ম্যাচ বয়কট করে। দুটি ম্যাচ তারা মাঠে নামেননি। পরবর্তী সময়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর নাজমুলের প্রক্যাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মাঠে ফেরেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু, সেই শর্ত এখন পর্যন্ত মানেননি এম নাজমুল ইসলাম। বোর্ডও নেয়নি কোনো ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে তাদের ক্ষতিপূরণ বোর্ড দেবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘ওরা যদি কিছুই না করতে পারে (কোনো টুর্নামেন্টে), ওদের পেছনে যে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, ওই টাকা কি ফেরত চাই? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে। বিশ্বকাপ না খেললে ক্ষতিপূরণ কেন দেব?’’
এর আগে তিনি তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ মন্তব্য করে।
কোয়াব এর আগে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে। এম নাজমুল ইসলাম ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন গণমাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তিনি ক্রিকেটারদের নিয়ে কূটক্তি করেছিলেন। সেজন্য ক্রিকেটারদের সংগঠন তার পদত্যাগের আলটিমেটাম দেয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হয়নি।
নাজমুল স্বপদে ফিরেছেন ঠিকই। তবে ক্রিকেটারদের অপমান করে বিসিবির শোকজের জবাব ‘ইতিবাচক’ দিয়েছেন বলেই পুরোনো জায়গায় ফিরেছেন। আমজাদ হোসেনও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘‘গত বোর্ড মিটিংয়ে যেই জিনিসটা হয়েছে, উনার যে শোকজটা ছিল সেটার ভালো জবাব তিনি দিয়েছেন। ওটার ব্যাপারে আলাপ হয়েছে।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল