যেসব অভ্যাস গড়ে তুললে কমতে পারে দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগের ঝুঁকি
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
২০২০ সালের National Library of Medicine–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশের মানুষের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগ প্রায় এক দশক আগেই দেখা যায়। বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ- এর হারও এখানে তুলনামূলক বেশি। অল্প বয়সে রোগের সূচনা, দ্রুত অগ্রগতি এবং তুলনামূলক বেশি মৃত্যুহার—এই তিনটি বিষয় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের। অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত ঝুঁকির কারণগুলো এই বাড়তি ঝুঁকিকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
হৃদ্রোগের বীজ সাধারণত অনেক বছর আগেই রোপিত হয়, আর এর বড় একটি কারণ দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের ছোট ছোট খাবারের নির্বাচন ধীরে ধীরে শরীরে প্রদাহ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পেটের ভিসেরাল ফ্যাট জমা এবং ধমনী স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই।
নয়াদিল্লির ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বীরমোহন আরোরা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন পাঁচটি বড় খাদ্যগত ভুলের কথা তুলে ধরেন।
যেসব খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ
তার মতে নিচের খাবারগুলো নিয়মিত বেশি খাওয়া এড়ানো উচিত—সিড অয়েল বা কিছু ভেজিটেবল অয়েল, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার, চিনি মেশানো পানীয়, পরিশোধিত শস্য (সাদা আটা, সাদা পাউরুটি, পাস্তা)এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস। তার বক্তব্য, “মেটাবলিজম ঠিক থাকলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমে।”
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক জগদীষ হিরেমাথ বলেন, খাদ্যাভ্যাস ও হৃদ্রোগের সম্পর্ক নিয়ে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। তবে ঝুঁকি সাধারণত একক কোনো খাবার থেকে নয়, বরং পুরো খাদ্যাভ্যাসের ধরণ থেকে তৈরি হয়।
বিভিন্ন বৃহৎ জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে—প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কারণ এসব খাবারে সাধারণত বেশি থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, সোডিয়াম, সংরক্ষণকারী উপাদান এবং দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ানোর প্রবণতা, যা শরীরের বিপাকীয় সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে।
সিড অয়েল নিয়ে বিতর্ক
সিড অয়েল বা ভেজিটেবল অয়েল নিয়ে বিতর্ক কিছুটা জটিল। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট—যেমন ভেজিটেবল অয়েলে থাকা ফ্যাট—খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল কমতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
আধুনিক হৃদ্রোগের বড় দুটি কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার প্রদাহ।
ডা. হিরেমাথের মতে, যখন শরীর ইনসুলিনের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে পড়ে তখন রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকে। এতে রক্তনালির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ধমনিতে প্লাক জমতে থাকে এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস দ্রুত বাড়ে। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ প্লাককে অস্থিতিশীল করে তোলে, যা ফেটে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
ভালো খবর হলো, এই দুটি সমস্যাই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে— পরিশোধিত চিনি কমানো, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা, আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো, বাদাম, বীজ ও সামুদ্রিক মাছের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করা। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হতে পারে।
এর পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
ঢাকা/লিপি