‘৫০ ক্লাবের মত- বিসিবি নির্বাচন ও বোর্ড অবৈধ’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদকে অনেক আগের থেকেই অবৈধ বলে আসছিলেন ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের কর্মকর্তরা। দেশের ৭৬ ক্লাবের ৫০টিরও বেশি ক্লাব দাবি করছে, বিসিবির সবশেষ নির্বাচন অবৈধ এবং যেভাবে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে তাও অবৈধ।
বিসিবি নির্বাচনে ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ এর অভিযোগ তুলে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বিরাট একটি অংশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। এই বোর্ডকে অবৈধ দাবি করে গত মাস পাঁচ ধরেই সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে দূরে আছে ঢাকার ৪৫টি ক্লাব।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ওল্ডডিওএইচ ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে ‘ফিক্সিংয়ের’ অভিযোগ তুলে তিনি সরে দাঁড়ান। তার দেখানো পথ ধরে অনেক ক্লাব কর্মকর্তাই নির্বাচন বয়কট করে। নানা প্রতিকূলতা, তীব্র সমালোচনার মধ্যেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন এগিয়ে নেন। তার হস্তক্ষেপের সরাসরি ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছিল নানামহল ধরে।
বোর্ড ও নির্বাচনকে অবৈধ বলা তামিম ইকিবালরা নিয়েছেন নতুন পদক্ষেপ। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। তামিম ইকবালের ভাষ্য, “সঠিক পথে যেভাবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা দরকার, আমরা সেভাবেই করছি। বাংলাদেশের ক্রীড়ায় যে নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করার দরকার, আমরা ওভাবেই এগোনোর চেষ্টা করছি। সেখানে জোর-জবরদস্তির কিছু নেই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যে কথাগুলি আছে, যে প্রমাণগুলো আছে, সেগুলো যৌক্তিক। এ কারণেই আমরা এই পথে যাচ্ছি।”
“আজকে আমরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগই বলতে পারেন করতে এসেছি আমরা। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাব এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে যে, এই নির্বাচন সঠিকভাবে হয়নি। ৭৬টিক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাব যদি একমত থাকে, এটিই তো অনেক কিছু প্রমাণ করে দেয়। এখানে আবাহনী-মোহামেডানসহ, যারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি ক্লাব, তারাসহ এটাতে একমত।” –যোগ করেন তামিম।
ক্লাব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং অবদানের কথা তুলে ধরে তামিম বলেছেন, ‘‘এই ক্লাবগুলো একমত না দেখেই ঢাকা লিগ, প্রথম বিভাগ লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ লিগ, তৃতীয় বিভাগ, সামনের প্রিমিয়ার লিগ, এসব অনিশ্চিত হয়ে আছে। এই আলোচনার মধ্যে আমরা সবসময় ভুলে যাই যে খেলা হচ্ছে না। ক্রিকেট বোর্ডকে এটারও উত্তর দিতে হবে যে, খেলা কেন হচ্ছে না। হ্যাঁ, আপনি ১২টি দল নিয়ে খেলছেন। (বাকি) ৮টি দলে ১০০-১৫০ ক্রিকেটার…। প্রথম বিভাগে আলাদা টুর্নামেন্ট করা হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে করা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগে যদি খেলা না হয়, তাহলে কী হবে! এসব প্রশ্ন করতে হবে, এগুলো জানতে হবে, উনাদের উত্তর দিতে হবে।”
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো আরেক সংগঠক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক ফাহিম সিনহা বলছেন, “আমরা আবেদন করেছি স্বাধীন তদন্ত সংস্থার জন্য, যেখানে এনএসসির একজন প্রতিনিধি থাকবে পারবে এবং ফর্মেশন কীভাবে হবে, এটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্ত হলে আমাদের স্বাক্ষ্য নিশ্চয়ই নেওয়া হবে যে, আমরা কীসের মুখোমুখি হয়েছিলাম।”
ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক মাসুদুজ্জামান বলেছেন, “আমরা এনএসসিতে আমাদের অভিযোগ দিয়েছি। যাবতীয় ঘটনাগুলি যা বিগত দিনে ঘটেছে, এ সমস্ত জিনিস আমরা জানিয়েছি। আমরা উনাদেরকে তদন্তের জন্য আবেদন করেছি। তদন্ত যেন দ্রুত করে… আমরা তো আসলে খেলার মাঠে ফিরে যেতে চাই, ক্রিকেট মাঠে গড়াক। আমরা চাই, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জিনিসটা হোক।”
ঢাকা/আমিনুল