ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:০১, ১ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের

২৯ এপ্রিল ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি সমাবেশে জনগণ স্লোগান দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো হামলা শুরু করে তাহলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। 

শুক্রবার (১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের দুই মাস পার হলেও প্রণালিটি এখনো বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহকে স্থবির করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান জলপথটি অবরোধ করে রেখেছে। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে এবং আমাদের অধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ ও গ্রহণযোগ্য।”

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উপকূলীয় জলপথে ‘তেল ছিনতাই’ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আপনি এই জলপথকে অপব্যবহার করতে দিতে পারেন না।” বাঘাই উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলার বিষয়টিকেও যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করেন।

শুক্রবার (১ মে) ইরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, “প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ইরানের বিশ্বাসঘাতকতামূলক আগ্রাসনের পর তাদের কোনো একতরফা ব্যবস্থার ওপর ভরসা বা বিশ্বাস রাখা যায় না।”

বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা মানামার বিরুদ্ধে ইরানের এই ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বাহরাইনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে দেন যে, যারা হামলাকারীদের পক্ষ নেবে তারা কারাদণ্ড, নাগরিকত্ব হারানো এবং বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শুক্রবারের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে এই যুদ্ধের অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদন বা ৩০ দিনের সময়সীমা বাড়ানো না হলে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সামরিক হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং নিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সিএনএন-কে বলেছেন, তার ধারণা একটি ‘আসন্ন সামরিক হামলা’ হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক কারণ এতে মার্কিন সেনাদের বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।

হামলা মোকাবিলায় ইরানও প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ছোট কোনো হামলা হলেও তার পরিণতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, জলপথে বিদেশিদের কোনো স্থান নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাজার মাইল দূর থেকে আসা বিদেশিদের জায়গা হবে সাগরের তলায়।”

আল-জাজিরার হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধ মাইক হানার মতে, যুদ্ধবিরতি না বাড়লে কী করা হবে সে বিষয়ে ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প একাই নেবেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়