ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাবি উর্দু বিভাগের নিয়োগ বিতর্ক: ব্যাখ্যা দিলেন উপ-উপাচার্য

ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, রাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ৩০ এপ্রিল ২০২৬  
রাবি উর্দু বিভাগের নিয়োগ বিতর্ক: ব্যাখ্যা দিলেন উপ-উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাইভা বোর্ডের সুপারিশে দ্বিতীয় স্থানে থাকা একজন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে, এ অভিযোগ নাকচ করে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন দাবি করেছেন, আলোচিত তালিকাটি কোনো মেধাতালিকা ছিল না; বরং জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা প্রকাশনা, অভিজ্ঞতা ও মৌখিক পরীক্ষার পারফরম্যান্স বিবেচনায় নামের ক্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নিয়োগ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে তিনি জানান, সিন্ডিকেট সভার আগে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে তাকে ফোনে ডেকে আবার রাবি ক্যাম্পাসে আনা হয়। সেখানে তাকে জানানো হয়, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয়জন নয়, কেবল তিনজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, “চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করতে গিয়ে দেখেন আগের সুপারিশকৃত তালিকার একজন প্রার্থীর অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর পরিবর্তে চতুর্থ স্থানের প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।” এটিকে অনিয়ম উল্লেখ করে তিনি আপত্তি জানান এবং চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর না করে কেবল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। পরে তার আপত্তি উপেক্ষা করে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় ওই নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন ব্যাখ্যায় করেন, “প্রথমে উর্দু বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে একই ধরনের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় সেটিকে মোট ছয়টি পদের ভিত্তি ধরে নিয়োগ বোর্ডকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সেই অনুযায়ী বোর্ড ছয়জনকে সুপারিশ করে। এ তালিকা তৈরির সময় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতা, পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে নামের ক্রম নির্ধারণ করা হলেও সেটি মেধাক্রম ছিল না; বরং বিভাগীয় তালিকায় নামের অবস্থান নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বোর্ডের দু-এক দিনের মধ্যেই তৎকালীন প্রশাসনের নজরে আসে যে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিটি নতুন নয়, বরং আগের তিনটি পদের পুনঃবিজ্ঞপ্তি। ফলে মোট পদসংখ্যা ছয় নয়, তিনটি হিসেবে গণ্য হয়। এরপর বোর্ড সদস্যদের আবার ডেকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আরো বলেন, “তখন আগের ছয়জনের তালিকার প্রথম তিনজনকে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য নতুন করে তিনজন নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যারা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে, তাদেরই নেওয়া হবে। এতে দেখা যায় আগের তালিকার একজন বাদ পড়ে যান।”

প্রার্থীদের নম্বর প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তদন্ত হলে তখন প্রকাশ করা সম্ভব। যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি লিখিত বা অন্য কোনো অংশে প্রথম ছিলেন না; তবে তার জ্যেষ্ঠতা, পিএইচডি ও প্রকাশনা বিবেচনায় তাকে আগে রাখা হয়েছিল, মেধার ভিত্তিতে নয়।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সালেহ্ হাসান নকীব। তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ তথ্য জানতে চাইলে এসে দেখতে পারে। কোথাও আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”

তিনি আরো বলেন, “শর্টলিস্ট হওয়া প্রার্থীদের নম্বর রেজিস্ট্রার দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট হবে।” গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়