ঢাকা     বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টিফিনে কাঁচা কলা বিতরণ, ফরিদপুরে শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬  
টিফিনে কাঁচা কলা বিতরণ, ফরিদপুরে শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফরিদপুর সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিনে বনরুটির সঙ্গে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা দেওয়ার ঘটনায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে রবিবার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার পূর্বখাবাসপুর এলাকার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।

আরো পড়ুন:

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম গোলাপী বেগম। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূল দায়ী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন শিক্ষককে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দিন শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে টিফিন হিসেবে বনরুটি ও কলা বিতরণ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ করা কলাগুলো এতটাই কাঁচা ছিল যে তা খাওয়ার উপযোগী ছিল না। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা গোলাপী বেগম বলেন, “প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় সেদিন আমি দায়িত্বে ছিলাম। খাবারের মান যাচাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। সরবরাহকারী যেভাবে খাবার দিয়েছে, সেভাবেই আমি বিতরণ করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো ত্রুটি নেই।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুনও শিক্ষিকার পক্ষে কথা বলেন। তিনি জানান, সরবরাহ করা কলাগুলো নিম্নমানের ছিল এবং কয়েকদিনেও পাকার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তার মতে, দায় সরবরাহকারীর হলেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে, যা অযৌক্তিক।

অন্যদিকে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক মো. জাকির হোসেন দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী খাবার আগেই সরবরাহ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে বিতরণ করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে দায় সরবরাহকারীর। স্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া একজন শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা এই বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের অনুপযোগী খাবার দেওয়া অসদাচরণের শামিল হওয়ায় ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/তামিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়