ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

লিটনের দুই রূপেই মুগ্ধ শামীম

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ১ মে ২০২৬  
লিটনের দুই রূপেই মুগ্ধ শামীম

অধিনায়ক লিটন দাসের দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাক্ষী হয়ে গেছেন শামীম। একদিকে কঠোর; কাজে কোনো ছাড় দেন না, ভুল হলে প্রকাশ্য সমালোচনাতেও দ্বিধা নেই। অন্যদিকে সতীর্থদের প্রতি রক্ষাকবচ; তাদের পাশে দাঁড়ান, প্রয়োজনে সবার বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

শামীমের ক্ষেত্রে এই দুই ভূমিকাই পালন করেছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বিশেষ করে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর ঘটনাটি বেশি ছুঁয়ে গেছে তাকে। লিটনের এমন নেতৃত্বে সন্তুষ্ট শামীম। মাঠে পারফর্ম করে অধিনায়কের আস্থা ফেরাতে পেরে তৃপ্তিও প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত বছরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি শামীম। দলের প্রয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেন অধিনায়ক লিটন। তিনি বলেছিলেন, “শামীমের ব্যাটিং হতাশ করেছে। সবসময় ক্রিজে এসে ব্যাটিং উপভোগ করা যাবে না, দায়িত্বও নিতে হবে। এটা তাকে ভাবতে হতো।”

সেই সিরিজে টানা দুই ম্যাচে ১ রান করে আউট হওয়ার পর দল থেকেই বাদ পড়েন শামীম।

তবে আয়ারল্যান্ড সিরিজে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে শামীম বাদ পড়লে তার পাশে দাঁড়ান লিটন। নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অধিনায়ক বলেন,“শামীম দুই-তিনটা সিরিজে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে, যা আমাদের দরকার ছিল। সেখান থেকে যদি সে বাদ পড়ে, সেটা তার জন্য হতাশাজনক। অধিনায়ক হিসেবে আমি সরি ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না।”

পরে অধিনায়কের হস্তক্ষেপেই আবার দলে ফেরেন শামীম। যদিও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। প্রায় পাঁচ মাস পর আবার সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই ব্যাটার।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংসে দলকে সহজ জয় এনে দেন শামীম। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি যেন তার প্রত্যাবর্তনের বার্তা হয়ে আসে।

এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি দিচ্ছেন অধিনায়ককেই। শামীম বলেন, “লিটন ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। একজন অধিনায়ক হিসেবে যা করার দরকার ছিল, তিনি করেছেন। আমাকে ফিরিয়েছেন, আমি ভালো খেলতে পেরেছি, এটা খুব ভালো লাগছে।”

লিটনের নেতৃত্বে দল গড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। সতীর্থদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দৃঢ় বন্ধন। শামীমের মতে, এই ঐক্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা অধিনায়কেরই। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টিতে আমরা বেশ কয়েকটি সিরিজ জিতেছি। দলের মধ্যে ভালো বন্ধন তৈরি হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি, তবে প্রস্তুতি ভালো ছিল। সব মিলিয়ে অধিনায়কত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

নিজেও স্বাধীনভাবে খেলতে পছন্দ করেন লিটন, এবং সতীর্থদেরও সেই স্বাধীনতা দেন। এই দিকটিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন শামীম। তার ভাষায়, “আত্মবিশ্বাসটা অধিনায়কের কাছ থেকেই আসে। লিটন ভাই সবসময় ফ্রি হয়ে খেলতে বলে এটা খুব কাজে দেয়।”

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়