তিন বছরের ভোগান্তির শেষ চান এলাকাবাসী
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কুষ্টিয়ার মিরপুর বাজারের জিকে খালের ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই কাজের কারণে খালের দুইপাড়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের। অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের অধীনে কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর মহাসড়কে মিরপুর থানা সংযোগকারী সড়কের (জেড-৭৪৫১) এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৫৭.০৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি আরসিসি ও পিসি গার্ডারসহ ফিঙ্গার আর্চ প্রযুক্তিতে নির্মাণাধীন।
প্রকল্পটির চুক্তি আইডি নম্বর ৮৭০৪৯৪। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর এবং কাজ শেষের নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের ২০ জুন। ১৮ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ভৌত অগ্রগতি ৪৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪৭.৪২ শতাংশ। কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড যৌথ উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাগর আহম্মেদের অভিযোগ, কোনো বিকল্প সড়ক বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না রেখেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে যানবাহন চলাচলের জন্য একটি কাঠের অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হলেও সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, পথচারীদের জন্য তৈরি করা বাঁশের সাঁকোটি ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।
অপর বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে সাঁকো। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গন্তব্যে পৌঁছাতে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার হওয়া মোটরসাইকেল আরোহী মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মারফত আফ্রিদী বলেন, “এই সেতু না হওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছি। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছি।”
ভ্যানচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সেতুর এ পাশের যাত্রীদের নিয়ে ওই পাশে যেতে পারছি না। দুই তিন কিলোমিটার দূর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের ভাড়া কমে গেছে।”
বাঁশের সাঁকো পার হওয়া রত্না খাতুন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সেতুর দুই পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।”
সেতুটির কাজ ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট এন্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, “আমাদের পিসি গার্ড কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সেতুর দুই পাশের আরসির কাজ আছে। অন্যান্য কাজও চলছে। শ্রমিক সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত কাজ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি, জুনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।”
কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, “সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা/কাঞ্চন/মাসুদ
‘পয়লা মে দিবস’ এর ইতিহাস