যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি ৪.৩০ ডলারে পৌঁছেছে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩.৮ লিটার) গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.৩০ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে। খবর আল-জাজিরার।
এএএ-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহেই জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে বেড়েছে ২৭ সেন্ট। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ এবং পাল্টা হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে এএএ বলেছে, “জাতীয় গড় গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১.১২ ডলার বেশি, কারণ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি কবে পুনরায় খুলবে তার কোনো ইঙ্গিত নেই।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “গ্যাসের দাম গত চার বছরের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।”
ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোল কিনতে সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে ৬ ডলারের বেশি।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও, তেহরানের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, আমরা তা নিশ্চিত করছি। যুদ্ধের এই মূল্য সাময়িক। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসবে।”
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল না হলেও, বিশ্ববাজারের মূল্য মার্কিন নাগরিকদের খরচের ওপর প্রভাব ফেলে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রায় পরাজিত- যুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি এই দাবি করে আসছেন। ইরানের ওপর নৌ অবরোধকে ‘সফল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইরান একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।”
তবে তেহরান তাদের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছে। অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেছে। এমনকি গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তার শীর্ষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখনও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন অবরোধের মুখে এই ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতিতে ইরানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, “বিশ্ব ইরানের সহনশীলতা ও সমঝোতা দেখেছে। নৌ-অবরোধের নামে যা করা হচ্ছে, তা একটি জাতির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরই নামান্তর, যারা তাদের প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার জন্য মূল্য দিচ্ছে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “এই নিপীড়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত রাখা অসহনীয়।”
ঢাকা/ফিরোজ
‘পয়লা মে দিবস’ এর ইতিহাস