ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিককে পেটানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ১ মে ২০২৬  
ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিককে পেটানোর অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুল। ছবি: সংগৃহীত।

ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে (৩৬) মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার ভাই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

পিপুল উপজেলার পাথরঘাটা (রোকনপুর) গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে। তিনি দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

অভিযুক্ত মো. শরীফ হোসেন (৩৫) ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে যায় কলেজপাড়া এলাকার ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক। ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পাবনা শহরে অবস্থান করা পিপুল মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য কামনা করেন। ওসি তাৎক্ষণিক এসআই আল-আমিন হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি  গিয়ে সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাইকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।  

সাংবাদিক পিপুল জানান, ওই ঘটনা নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইলে বাহার নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে পিপুলের অবস্থান জেনে নেয় এবং ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।

এরপর পিপুল ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে পৌঁছালে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। নিজের পরিচয় দিলে ওই দুই ব্যক্তি বলে, আমরাই তোর ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলাম, তুই ফেসবুকে কি লিখেছিস, বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পিপুল সেখান হতে চলে যাবার সময় আরেকটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই শরিফ বলে পরিচয় দেন একজন। তিনি জানতে চান, ‘তুই কোথায় আছিস’। অবস্থান ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড বলে জানালে শরিফ ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন এসে মারপিট করে। পরে সেখান থেকে দৌঁড়ে পিপুল পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল বাদি হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় শরীফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শরীফ বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ওই সংবাদিকের ভাই আমাদের তিনজন ছেলেকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আজকে তারা সামিকে জিজ্ঞাসা করছে, ওই সময় তাদের ক্ষতি করেছিল কেন। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি থানা পুলিশও সেখানে আছে। পিপুলের ভাইকে একটা টোকাও দেওয়া হয়নি। তিনি ফেসবুকে আমাদের বেদেপাড়ার ছেলেপেলে বলে কটাক্ষ করে পোস্ট দিয়েছের। তাকে ফেসবুক থেকে পোস্টটি ডিলিট করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা করেন নাই। এটা নিয়ে ছেলেরা রাগান্বিত ছিল, একটু হাতাহাতি হয়েছে।”

ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। আমার ভাই মারামারির করার মতো ছেলে না। আমি অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেই না। আপন ভাই হলেও ছাড় দেই না। ঘটনার সাথে আমার ভাই জড়িত না। ছাত্রদলের ছেলেদের সঙ্গে আগে ছাত্রলীগের একটা ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবার সেটার সমাধান হয়ে গেছে পুলিশের উপস্থিতিতে। মূলত পিপুল ফেসবুকে নাকি জাতি তুলে একটা পোস্ট দিছিল। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারামারি হয়নি। আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাকিউল আযম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/শাহীন/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়