মার্কিন কঠোর আইন সত্ত্বেও যেভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে তৈরি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ আইনের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইন। তার মতে, এই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।
১৯৭৩ সালে আইনটি পাসের সময় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা এই আইনজ্ঞ শুক্রবার (১ মে) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই রেজোলিউশনটি অনেক ক্ষেত্রেই বেশ অসংলগ্ন। কোনো আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে- দেশ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি থেকে যুদ্ধে রূপান্তরের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের।”
ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করেনি। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে একটি ‘ফৌজদারি অপরাধমূলক আগ্রাসন’।”
ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন অনুযায়ী, কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায় যুদ্ধ বন্ধ করতে হয়। তবে ব্রুস ফেইন সতর্ক করে বলেন, এই আইনেই রয়ে গেছে বড় ফাঁক।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় বলতে পারেন, “গত কয়েক ঘণ্টা কোনো বোমাবর্ষণ হয়নি, তাই যুদ্ধ শেষ।” এর মাধ্যমে তিনি আবার নতুন করে ‘৬০ দিনের সময়সীমা’ শুরু করতে পারেন।
রেজোলিউশনের কোথাও নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে, যুদ্ধের ঘড়ি ঠিক কখন শুরু হবে আর কখন থামবে।
ব্রুস ফেইনের মতে, এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের তোয়াক্কা না করেই সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘায়িত করার ক্ষমতা রাখে। আইনটি যুদ্ধের লাগাম টেনে ধরার জন্য তৈরি হলেও, বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রেসিডেন্টের জন্য এক ধরনের আইনি সুরক্ষা কবজ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানের ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্পের হাতে শুক্রবার পর্যন্তই সময় ছিল অনুমোদন নেওয়ার। তবে প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার দাবি, ৭ এপ্রিলের পর থেকে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে কোনো গুলিবিনিময় হয়নি। তাই যুদ্ধের ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ না হওয়ায় কংগ্রেসের অনুমোদনেরও প্রয়োজন নেই।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে মূলত আইনের ৬০ দিনের সময়সীমাকে নতুন করে শুরু করার কৌশল নিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এর ফলে কংগ্রেসের ভোটাভুটি এড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ঢাকা/ফিরোজ
‘পয়লা মে দিবস’ এর ইতিহাস