মে দিবস
চিকিৎসকরা চান নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নার্স-আয়া চান ন্যায্য সম্মানী
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
জীবন বাঁচাতে দিন-রাত কাজ করেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের আয়া। কিন্তু সেই সেবার আড়ালে জমে আছে তাদের না-পাওয়া, ক্লান্তি আর নিরাপত্তাহীনতার গল্প। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সামনে এসেছে স্বাস্থ্যখাতের এই কর্মীদের ভিন্ন ভিন্ন দাবি। কারও দাবি নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও নিরাপত্তা। কারও দাবি ন্যায্য বেতন ও প্রাপ্য সম্মান।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও আয়াদের সঙ্গে কথা বলেছে রাইজিংবিডি। তাদের কণ্ঠে উঠে এসেছে কাজের চাপ, নিরাপত্তাহীনতা, কম বেতন ও প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ার মতো নানা বাস্তবতা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বলতে কিছু নেই। অনেক সময় টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করতে হয়। এতে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ি, মানসিক চাপও বাড়ে। নির্দিষ্ট শিফট ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা খুব জরুরি।”
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, “সম্প্রতি চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ অনেক সময় আমাদের ওপরই পড়ে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।”
পঙ্গু হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাশেদ মাহমুদ বলেন, “চিকিৎসা একটি সংবেদনশীল পেশা। এখানে ভুলের সুযোগ নেই। কিন্তু টানা কাজ করলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে নার্সদের কণ্ঠে উঠে এসেছে বেতন ও সম্মানের প্রশ্ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা রোগীর পাশে সবচেয়ে বেশি সময় থাকি। কিন্তু সেই অনুযায়ী সম্মান বা বেতন পাই না। আমাদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।”
ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স রুবিনা খাতুন বলেন, “ডিউটির চাপ অনেক বেশি। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক রোগী সামলাতে হয়। কিন্তু বেতন কাঠামো সেই তুলনায় বাড়েনি।”
হাসপাতালের আয়াদের কণ্ঠেও উঠে এসেছে একই কথা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়া হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের কাজ খুব কষ্টের। রোগীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া। কিন্তু বেতন খুব কম। ওভারটাইমেরও ঠিকমতো টাকা পাই না।”
পঙ্গু হাসপাতালের আয়া রহিমা খাতুন বলেন, “আমাদের কোনো সম্মান নেই বললেই চলে। অথচ রোগীর সেবায় আমরা ভূমিকা রাখি। আমাদের ন্যায্য বেতন ও সম্মান দরকার।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আফজাল আহমেদ বলেন, ‘‘চিকিৎসক, নার্স ও আয়াদের এই ভিন্ন ভিন্ন দাবিগুলো মূলত একই বাস্তবতার প্রতিফলন- কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে প্রাপ্য সুবিধার অভাব। চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নার্স ও সহায়ক কর্মীদের জন্য ন্যায্য বেতন ও মর্যাদা নিশ্চিত না করলে স্বাস্থ্যসেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’’
মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্যেই স্বাস্থ্যখাতের এই কর্মীদের দাবি পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা/এমএসবি//
‘পয়লা মে দিবস’ এর ইতিহাস