ওয়ানডের সুদিন ফেরাতে পারেন ব্যাটসম্যানরাই
ওয়ানডে ক্রিকেট একসময় ছিল বাংলাদেশের গর্বের জায়গা। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে যেভাবে এগিয়েছে বাংলাদেশ, তা বিশ্ব ক্রিকেটেও নজর কাড়ে। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল, ঘরের মাঠ ও বিদেশে একাধিক বড় সিরিজ জয়; সব মিলিয়ে এই ফরম্যাটে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে দলটি।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চিত্রটা বদলে গেছে। গত বছর আফগানিস্তানের কাছেও হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। পুরো বছরে খেলা ১১ ওয়ানডের মধ্যে জয় এসেছে মাত্র তিনটিতে। সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার কঠিন চ্যালেঞ্জ। র্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকতে না পারলে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৪, অবস্থান দশম। তাই সামনের প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচই এখন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ইতিবাচক দিক হলো- লড়াই শুরু হচ্ছে মার্চ থেকেই।
কিছুদিন পরই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের হোম সিরিজ। এই সিরিজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় পরীক্ষা। কারণ, গত বছর ওয়ানডেতে ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ১১ ম্যাচের ৮টিতেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি দল। যেন প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ।
পাকিস্তান সিরিজের আগে বিসিএল ওয়ানডে দিয়ে প্রস্তুতি সেরেছে ক্রিকেটাররা। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ভাষায়, “শেষ ১০টা ওয়ানডেতে আমরা পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস শেষ করতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
বিসিএলের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশা আছে তার কণ্ঠে, “প্রতিটি দলই বড় স্কোর করতে পারেনি। অভিজ্ঞ অনেক ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকতা ছিল না। আরও সেঞ্চুরি হওয়া উচিত ছিল, ৫০ ওভার দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং করা দরকার ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি- যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতোই হয়েছে।’’
তাহলে সমস্যার মূল কোথায়? শান্ত মনে করেন, অতিরিক্ত টি-টোয়েন্টি খেলার প্রভাব পড়ছে ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে, “ব্যাটসম্যানদের মাথায় এখন স্ট্রাইক রেট আর বড় শট খেলার চিন্তা বেশি। কিন্তু ওয়ানডেতে শুরুতে উইকেট না হারানো, মাঝের ওভারে পরিস্থিতি বুঝে খেলা, স্ট্রাইক রোটেশন করে ইনিংস লম্বা করা- এই জিনিসগুলো আমরা মিস করছি।”
তার মতে, ইনিংস গড়ার মানসিকতায় ফিরতে হবে ব্যাটসম্যানদের। চার-ছক্কার চিন্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ইনিংস বড় করা ও ৫০ ওভার দাপটের সঙ্গে খেলার দিকে। তাহলেই আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের হারানো ধার ফিরে পেতে পারে বাংলাদেশ।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল