ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি, এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:০৯, ২৩ মার্চ ২০২৬
বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি, এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধস

ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। 

সোমবার (২৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। 

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার লেনদেন শুরুর পরপরই জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ চার শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকেও প্রায় ২ শতাংশ পতন দেখা গেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ ও নিউজিল্যান্ডের এনজেডএক্স ৫০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারে পৌঁছায়, যা পরে কিছুটা কমে ১১২ ডলারে থিতু হয়েছে।

গত শনিবার (২১ মার্চ) ট্রাম্প হুমকি দেন যে, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ‘নামনিশানা মিটিয়ে’ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

পাল্টা জবাবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং ট্রাম্প হামলা চালালে এ অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে।

ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট অনুযায়ী, এই আল্টিমেটামের সময়সীমা সোমবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে মিনিটে শেষ হতে যাচ্ছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের এই যুদ্ধ এক মাসে পা দিতে চলেছে, কিন্তু থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ এমনকি ২০০ ডলারেও ঠেকতে পারে।

এদিকে, গত রবিবার (২২ মার্চ) ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই প্রণালিটি উন্মুক্ত করা ‘অপরিহার্য’।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও দেখা গেছে। শনিবার আল্টিমেটাম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি বলেছিলেন যে, তারা লক্ষ্য পূরণের ‘খুব কাছাকাছি’ এবং সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে অন্তত আরও তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়