কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো বৈঠক, যুদ্ধের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন
|| রাইজিংবিডি.কম
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘোষণা এই সংঘাতের ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতির ফলে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখন অশ্চিয়তার মুখে পড়েছে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকট চলতেই থাকবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরানের নেতারা চুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটির ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। কিন্তু বর্তমানে এটি স্পষ্ট নয় যে, তিনি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে কতটা আগ্রহী। কারণ এই যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের কাছে খুবই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ট্রাম্প নিজেও দাবি করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই সামরিকভাবে জয়ী হয়েছে।
ইসলামাবাদে অবস্থানকালে ভ্যান্স পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান চাইলে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘শেষ এবং সেরা অফারটি’ গ্রহণ করতে পারে, তবে অচলাবস্থা নিরসনে ভবিষ্যতে কোনো আলোচনার রূপরেখা তিনি দেননি।
শনিবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি হলো কি হলো না, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমরা ইতিমধ্যেই ইরানকে সামরিকভাবে হারিয়ে দিয়েছি।”
এদিকে রবিবার বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ‘বল এখন আমেরিকার কোর্টে’ এবং আলোচনার জন্য ‘ইরানের কোনো তাড়া নেই’।
সূত্রটি জানায়, “ইরান আলোচনায় অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত উদ্যোগ ও প্রস্তাব পেশ করেছে। এখন আমেরিকার দায়িত্ব বিষয়গুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে দেখা।”
সূত্রটি আরও অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মতো আলোচনার টেবিলেও ভুল হিসেব করছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌক্তিক চুক্তিতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ বা স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত কোনো সমাধান না আসায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঢাকা/ফিরোজ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা থমকে গেলেও হাল ছাড়ছে না পাকিস্তান