ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সগিরা মোর্শেদ হত্যা : ভাসুর-জাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৯ ২:১০:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-০৯ ৭:০৫:২৩ পিএম

তিন দশক আগে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যাকান্ডে দায়ের করা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৫ মার্চ চার্জ শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

আসামিরা হলেন- সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজা (৫৯)। এদিন আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এদিকে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলী হোসেন, আ. রহিম ও জাহিদ হোসেন নামে তিন জনকে অব্যাহতি দেন আদালত।

গত ১৫ জানুয়ারি চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। আলী হোসেন, আ. রহিম ও জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জায়দুর রহমান এতথ্য জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীরা সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দু’জনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামের একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়।

বাদীপক্ষের সাক্ষ্যে আসামি মন্টু ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজার নাম আসে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন।

পরের বছরের ২৭ আগস্ট অপর এক আদেশে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এতে থমকে যায় মামলার কার্যক্রম। এরপর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ জুন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ মামলার অধিকতর তদন্ত আদেশে ইতিপূর্বে দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

গত বছরের ১৭ আগস্ট এ মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশে ৬ মাস তদন্ত চলাকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা হাইকোর্টে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

ঢাকা/মামুন খান/টিপু