সীমান্তে ১০ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, কড়া অবস্থানে বিজিবি
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) ১০টি পৃথক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৫৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪-৫ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
এছাড়া, মহেশপুরের সামন্তা বিওপি এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের আবার ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় ২১ বিজিবির সদস্যরা কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখেন। বিজিবির সক্রিয় তৎপরতায় সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জনকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পায় ২০ বিজিবি। পরে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ফলে ওই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পসংলগ্ন তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে নাগরিকত্ব যাচাই তালিকা (এসআইআর) থেকে বাদ পড়া চারজন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে তথ্য পেয়েছে ৫৩ বিজিবি। এ ঘটনায় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের সদস্যরা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলেও তথ্য পেয়েছে ৫০ বিজিবি। এ বিষয়ে বিএসএফ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওই ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার চন্দনপার্ক এলাকায় একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পেয়েছে ৫৯ বিজিবি। এ কারণে সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে, নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে ৩১ বিজিবি। সীমান্তের একটি অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ঢাকা/এমআর/ইভা