ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

১১ বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ: তথ্যমন্ত্রী

সচিববালয় প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-০৭ ৭:৫৮:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-০৭ ৮:০৭:০৯ পিএম

সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরকে ধারাবাহিক সাফল্যের আরো একবছর বলে অভিহিত করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত ১১ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হয়েছে বাংলাদেশের।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সম্মেলন কক্ষে সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৫ শতাংশ, যেটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ শতাংশের নিচে। গত ১১ বছরে পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রসমূহের যদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যোগফল নেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে গত ১১ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। জাতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অর্জন জাতিকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে, স্বপ্নপূরণের অভিযাত্রা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলার স্বাক্ষর। ’

মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতিবাচক রাজনীতি ও সংঘর্ষের রাজনীতি পরিহারের পক্ষে। কিন্তু একপক্ষ হাত প্রসারিত করলে তা সম্ভব নয়, বিরোধী পক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

দিনটি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘গতবছরের ৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিন টানা তৃতীয়বার এবং দেশে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। একইসাথে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ শপথ গ্রহণ করেছিলেন। সেই হিসেবে সরকারের আজকে একবছর পূর্তি।’

দশ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গতবছরও বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সাফল্যের বছর ছিল, উল্লেখ করে তিনি বলেন, `প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ২০০৯ সালের দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে, ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ এখন আর স্বল্পোন্নত নয়, ইতিমধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর খাদ্যঘাটতির দেশ নয়, খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়, যেটি ২০০৮ সালে ছিল ৬০০ ডলার, সেটি গতবছর দুই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলারে যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার। আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য সেজন‌্যই পাকিস্তানে টেলিভিশনে আলোচনা হয়, পাকিস্তানকে যেন পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্ট করা হয়। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তিনিও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশ আজকে সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। 

বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন দেশে ৪০ শতাংশের মতো মানুষ বিদ্যুৎ পেত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩৩শ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনাকাল ১৯০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১০৬ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৩শ মেগাওয়াট। আর ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে সেই উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট। ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। আমরা আশা করছি, মুজিববর্ষে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।

পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, পদ্মাসেতুর ৮৪.৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। উপমহাদেশের প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে মোটর টানেল কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দ্রুত নির্মাণ হচ্ছে, যার ৪০% এর বেশি কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকায় চলাচলের জন‌্য মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে, যা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

নিজ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখানো প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল কয়েক যুগ আগে থেকে। কিন্তু সেটি সম্ভবপর হয়নি। গত বছর ২ সেপ্টেম্বর থেকে দুরদর্শনের ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সমগ্র ভারতে অফিসিয়ালি বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রদর্শিত হচ্ছে। এ মাসেই বাংলাদেশ বেতারও সমগ্র ভারতে সম্প্রচারিত হবে।

ড. হাছান বলেন, ‘বিদেশি টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছি। অনেকগুলো টেলিভিশনে বিদেশি সিরিয়াল কোনো অনুমতি ছাড়া প্রদর্শিত হচ্ছিল, যেটি আমরা একটি নিয়মনীতির মধ্যে এনেছি। অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মোবাইল কোর্ট চলছে। চলচ্চিত্র শিল্পীদের দাবি ছিল, একটি কল্যাণ ট্রাস্ট করা। সেই কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে ট্রাস্ট আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।

 

ঢাকা/আসাদ/সাজেদ